অপরাধ কন্যাসন্তান জন্ম

কেশবপুরে স্বামীর নির্যাতনে গৃহবধূ হাসপাতালে

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

কেশবপুরে স্বামীর নির্যাতনে শিল্পী খাতুন নামের এক গৃহবধূ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নির্যাতিত ওই গৃহবধূ গতকাল সোমবার স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পরপর চারটি কন্যাসন্তান জন্ম হওয়ায় তার ওপর নির্যাতন নেমে আসে বলে অভিযোগ গৃহবধূর।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ভাল্লুকঘর গ্রামের ওই গৃহবধূ জানান, ২২ বছর আগে দশম শ্রেণিতে পড়াকালে একই গ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থী সামরুল হোসেনকে প্রেম করে বিয়ে করেন তিনি। তাদের সংসারে সুষমা আক্তার, সামিয়া আক্তার, সুমাইয়া আক্তার ও সাবরিনা ইয়াসমিন নামের চারটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর তারা সুখেই দিন কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু তৃতীয় মেয়ের জন্মের পরই স্বামীর অন্য রূপ বেরিয়ে আসে। বিভিন্ন অজুহাতে তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়। একপর্যায়ে ছেলের আশায় স্বামী সামরুল সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা এলাকায় আরেকটি বিয়ে করেন। কিছুদিন পর সেই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর ডুমুরিয়ার মাগুরাঘোনা গ্রামের পলি খাতুনকে তৃতীয় বিয়ে করেন।

কাঁদতে কাঁদতে শিল্পী খাতুন বলেন, মেয়ে জন্মের বিষয়ে তো আমার হাত নেই। চতুর্থ মেয়ের জন্মের পর তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চরম আকার ধারণ করে। আমাকে ও মেয়েদের ঠিকমতো দেখভাল করত না স্বামী। একপর্যায়ে মোটরসাইকেল কেনার জন্য বাবার বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা এনে দিতে বলেন। আমি রাজি না হওয়ায় রোববার দুপুরে বসতঘরে আটকে কাঠের হাক (হুড়কো) দিয়ে দুই হাত ও পায়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়েছে। ডান হাতের আঙুল ভেঙে দিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে স্বামী সামরুল হোসেন বলেন, তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করিনি। পারিবারিক কলহের কারণে হাত দিয়ে চড়-থাপড় দিয়েছি। কন্যাসন্তান জন্মের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি নিরুত্তর থাকেন। কেশবপুর থানার ডিউটি অফিসার এসআই রবিউল ইসলাম নির্যাতিত ওই গৃহবধূর লিখিত অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।