ফ্ল্যাটেই তৈরি হতো ব্র্যান্ডের প্রসাধনী

চকবাজারে নকল কারখানা সিলগালা

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সমকাল প্রতিবেদক

ফ্ল্যাটেই তৈরি হতো ব্র্যান্ডের প্রসাধনী

সোমবার পুরান ঢাকার চকবাজারে অভিযান চালিয়ে নকল প্রসাধনী জব্দ করেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত - সমকাল

পুরান ঢাকার চকবাজারের বাল্লু রোডের বহুতল আবাসিক ভবন। ওই ভবনের নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে তৈরি হতো নানা প্রসাধনী। তা দেশি-বিদেশি নামকরা সব ব্রান্ডের! তবে এর সবই নকল আর ভেজাল। যদিও প্রায় হুবহু কৌটা আর টিউবে ভরে তা সারাদেশে বাজারজাত করা হচ্ছিল। গতকাল সোমবার র‌্যাবের ভ্রাম্যামাণ আদালত 'মেসার্স নিধি কসমেটিক্স' নামের প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে এমন দৃশ্য দেখতে পান। পরে সেখান থেকে দু'জনকে গ্রেপ্তারের পর জেল-জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি কারখানাটিও সিলগালা করা হয়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও বিএসটিআইর সহায়তায় র‌্যাব-৩ ওই অভিযান চালায়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু।

র‌্যাব জানায়, নকল প্রসাধনী তৈরির ওই কারখানায় ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী, ভিট, পন্ডস, বেটনোভেট ক্রিমের নামে নানা ধরনের নকল প্রসাধনী তৈরি করা হচ্ছিল। নানা ধরনের রাসায়নিক দিয়ে এসব পণ্য উৎপাদন করে আসল পণ্যের লেভেলের মতো লেভেল তৈরি করে তাতে ভরা হতো। এরপর এগুলো রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি মার্কেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি বিক্রি করা হতো। ওই কারখানাটি থেকে কারিগর আলিনুর হোসেন ও জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা নিজেদের দোষ স্বীকার করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট দু'জনকে তিন লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। তা অনাদায়ে তাদের দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, আবাসিক ভবনে গড়ে ওঠা কারখানাটির নূ্যনতম অনুমোদন ছিল না। এর পরও সেখানে নানা ধরনের রাসায়নিক দিয়ে নকল প্রসাধনী তৈরি করে তা বাজারজাত করা হচ্ছিল। তিনি বলেন, নানা নকল প্রসাধনীর সঙ্গে তিন ড্রাম রাসায়নিক জব্দ করা হয়েছে। এসব রাসায়নিক দিয়ে কয়েক লাখ টিউব প্রসাধনী তৈরি সম্ভব। ওই কারখানা থেকে জনসন বেবি লোশন ও ডাব সাবানের মতো প্রসাধন সামগ্রী তৈরি করা হতো।