ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির ছায়া সংসদে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

কৃষিপণ্য কমিশন গঠন জরুরি

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সমকাল প্রতিবেদক

 কৃষিপণ্য কমিশন গঠন জরুরি

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে এফডিসিতে সোমবার ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির ছায়া সংসদে বিজয়ী দলকে ক্রেস্ট তুলে দেন অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও সংস্থাটির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ - সংগৃহীত

কৃষি বিশেষজ্ঞ ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কৃষিপণ্য কমিশন গঠন জরুরি। এ কমিশন কৃষি মন্ত্রণালয় বা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতিদ্বন্দ্বী হবে না; বরং সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে 'কৃষি খাতে করোনার অভিঘাত মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগ' নিয়ে ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এসব কথা বলেন।

প্রতিযোগিতায় বিরোধী দল আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে পরাজিত করে সরকারি দল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, অনিমেষ কর, দৌলত আক্তার মালা ও কাবেরী মৈত্রেয়। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলের মধ্যে ক্রেস্ট, ট্রফি ও সনদ দেওয়া হয়।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, করোনাকালে কৃষি খাতে সমস্যা মোকাবিলায় সরকারের প্রণোদনা সঠিক হলেও পর্যাপ্ত ছিল না। আর ঋণ প্রণোদনা প্রদানের চেয়ে নগদ আর্থিক প্রণোদনা বেশি কার্যকর। কেননা প্রান্তিক কৃষকের পক্ষে বিভিন্ন দাপ্তরিক জটিলতা অতিক্রম করে ঋণ নেওয়া দুরূহ। এ কারণে করোনার আপৎকালে কৃষককে নগদ দুই হাজার ৫০০ টাকা প্রদান বিশেষ সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, সংসদে নীতিনির্ধারণ ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে কৃষকের কোনো প্রতিনিধি নেই। তাই কৃষকের সংগঠন জরুরি হয়ে পড়েছে। যে সংগঠন কৃষকের সুখ-দুঃখ ও অভাব-অভিযোগ নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলবে। তার মতে, কৃষিবান্ধব আর কৃষকবান্ধব কথাটি যে এক নয়, তা করোনাকালে আরও সুস্পষ্ট হয়েছে। সরকার কৃষিবান্ধব হলেই কৃষকের উপকার হবে, তা বলা যায় না। কৃষি উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন ইত্যাদি ক্ষেত্রে কৃষক যেন মধ্যস্বত্বভোগীদের দ্বারা প্রতারিত না হন, তার জন্য সরকারকে কৃষকবান্ধব হতে হবে। প্রণোদনা প্রদানের ক্ষেত্রে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে স্থানীয় সরকার, এনজিও ও ব্যক্তি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তিনি মনে করেন, করোনা বিপর্যয়ে সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট না হলেও তা সঠিক সময়ে নেওয়া হয়েছে। দু'ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি ছিল চলমান উদ্যোগ, আরেকটি করোনা বিপর্যয়কালীন বিশেষ উদ্যোগ।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, কৃষকদের কোনো শক্ত সংগঠন নেই। ফলে তাদের সমস্যা মোকাবিলায় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য পুরোপুরি চাপ তৈরি করা যায় না। তবে কৃষিবান্ধব বর্তমান সরকার করোনার অভিঘাত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে। কৃষি খাতে করোনার অভিঘাত মোকাবিলায় তিনি ১০ দফা সুপারিশ প্রদান করেন। এগুলো হচ্ছে- ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঋণের সুদ মওকুফ করা, ঋণের কিস্তি পরিশোধের মেয়াদ বাড়ানো, এককালীন সাহায্যের তহবিল গঠন করা, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, শক্তিশালী কৃষি কমিশন গঠন, প্রণোদনা প্রদানের ক্ষেত্রে কৃষি শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্ত করা, নারী কৃষকরা যেন প্রণোদনা থেকে বাদ না যায় তা নিশ্চিত করা, প্রণোদনার উপকারভোগী নির্বাচনে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, প্রকৃত কৃষকদের জন্য স্বল্পমূল্যে ও সহজ কিস্তিতে কৃষি যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত কৃষকদের কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড প্রদান ও এর আওতা বাড়ানো।