বরিশাল নগর বিএনপির বিভক্তি স্পষ্ট হচ্ছে

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সুমন চৌধুরী, বরিশাল

প্রায় তিন দশক ধরে বরিশাল বিএনপিতে একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রেখেছেন দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল নগর বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার। তবে গত এক সপ্তাহে নগর বিএনপির ব্যানারে পৃথক দুটি কর্মসূচি পালিত হওয়ায় দলের বিভক্তি সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তার একক নেতৃত্বও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

গত রোববার শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে শহীদ মিনারে গিয়ে সরোয়ারের নেতৃত্বে নগর বিএনপির নেতাকর্মীরা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এর দেড় ঘণ্টা আগে সকাল ৯টায় নগর বিএনপি ব্যানারে সদর রোড কাকলী সিনেমা হলের মোড় থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে মহানগর বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক আফরোজা খানম নাসরিন পৃথকভাবে শহীদ মিনারে গিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার নগরীর জিলা স্কুল মাঠে কেন্দ্র ঘোষিত বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ হয়। মহানগর বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মহসিন মন্টু মহানগর বিএনপির ব্যানার নিয়ে শোডাউন করে সমাবেশে অংশ নেন। মহসিন মন্টু বরিশাল বিএনপিতে সরোয়ারবিরোধী বলয়ের নেতা হিসেবে পরিচিত।

অমর একুশের সকালে পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, 'দলকে শক্তিশালী করার জন্য যে যার মতো করে কাজ করছি। আগামীতেও এভাবেই কর্মসূচি পালিত হবে।' তার অভিযোগ, মহানগর বিএনপির কর্মসূচি তাকে জানানো হয় না। কোনো কর্মসূচিতে গেলে এক শীর্ষ নেতার অনুসারীরা তার উদ্দেশে কটূক্তি করে থাকেন। তাই তিনি পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করেছেন।

সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মহসিন মন্টুও বলেন, গত ৭-৮ মাস ধরে দলের কর্মসূচি তাকেসহ অনেককে জানানো হয় না। তারা কর্মসূচিতে গেলে মঞ্চে উঠতে দেওয়া হয় না। গত বৃহস্পতিবার বিভাগীয় সমাবেশের মঞ্চেও তিনি উঠতে পারেননি। তিনি বলেন, বর্তমান নেতৃত্ব দিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম হবে না। তাই সবাই নগর বিএনপির নেতৃত্বে পরিবর্তন চাইছে।

এ প্রসঙ্গে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, অ্যাডভোকেট মন্টু ও আফরোজা নাসরিনের পৃথক কর্মসূচি পালনের বিষয়টি তাদের জানা নেই। বিষয়টি তারা দলের হাইকমান্ডকে জানাবেন।

দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে সম্ভাব্য আহ্বায়ক কমিটি : প্রায় চার বছর আগে নগর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহিনের মৃত্যু হলে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন সরোয়ারের আস্থাভাজন জিয়াউদ্দিন সিকদার। এতে ক্ষুব্ধ হন সরোয়ারেরই আস্থাভাজন নব্বই দশকের ছাত্রদল নেতারা। গত কয়েক বছরে তারা অনেক সংঘবদ্ধ হয়ে উঠেছেন। এদিকে নগর বিএনপির বর্তমান কমিটিকে ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করতে চলেছে বিএনপির হাইকমান্ড। সরোয়ারবিরোধীরা চাইছেন, এই কমিটির সদস্য সচিব পদটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে তারা ঢাকায় গিয়ে হাইকমান্ডের কাছে সাবেক ১০ ছাত্রনেতার একটি তালিকা দিয়ে তাদের মধ্যে যে কাউকে আসন্ন কমিটির সদস্য সচিব করার দাবি জানিয়েছেন।

এসব বিষয়ে মজিবর রহমান সরোয়ার অবশ্য বারবার বলে আসছেন, যারা বিরোধিতা করছেন তারা দলের বিভিন্ন পদে থেকেও সাংগঠনিকভাবে নিষ্ফ্ক্রিয় রয়েছেন। তারা তাদের মতভিন্নতা নিয়েও কখনও তার সঙ্গে কথা বলেননি।