অ্যাকাউন্ট থেকে ৬ লাখ টাকা উত্তোলন জানেন না গ্রাহক

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

কুমিল্লা সংবাদদাতা

কুমিল্লায় পূবালী ব্যাংকের একটি শাখায় নজরুল ইসলাম নামে এক গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে ছয় লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কিছুই জানেন না ওই গ্রাহক। তিনি অ্যাকাউন্টের চেকও দেননি কাউকে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ওই ব্যাংকের পদুয়ার বাজার (বিশ্বরোড) শাখায়। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন নজরুল ইসলাম।

এদিকে, ওই গ্রাহকের টাকা উত্তোলনের পর ব্যাংকের সিসিটিভির ফুটেজও পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যাংকের একটি ভেন্টিলেটর ভেঙে সিসিটিভির হার্ডডিস্ক পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে এমন কথা বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষও থানায় একটি জিডি করেছে। দুটি জিডির বিষয় নিশ্চিত করেছেন ওসি দেবাশীষ চৌধুরী।

ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা ৩৩ মিনিটে তার মোবাইল ফোনে একটি এসএমএস আসে। এতে তিনি দেখতে পান, পূবালী ব্যাংক পদুয়ার বাজার শাখায় তার অ্যাকাউন্ট থেকে ছয় লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। উত্তোলনের পর অ্যাকাউন্টে জমা আছে ৪৪ হাজার ৩৬৭ টাকা। তখন আমি কর্মস্থল নাঙ্গলকোটে ছিলাম। প্রথমে মনে হয়েছিল, মেসেজটি ভুয়া। এরপর আমি ঘটনাটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ব্যাংকে যাই। গিয়ে দেখি ব্যাংক বন্ধ। শুক্র, শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি এবং রোববার একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ব্যাংক বন্ধ ছিল। এরই মধ্যে ব্যাংকে কর্মরত একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সোমবার সকালে ব্যাংকে যেতে বলেন।

নজরুল ইসলাম বলেন, সোমবার সকালে ব্যাংকে গিয়ে দেখি আমার অ্যাকাউন্টে টাকা নেই। ব্যাংকের লোকজন সিসিটিভির ফুটেজও দেখতে পারছেন না। ওই সময়ের ফুটেজ নেই তাদের কাছে। আমার টাকা কোথায় গেছে ব্যাংকের লোকেরাই ভালো বলতে পারবে। আমি কাউকে চেক দিইনি। টাকা দেওয়ার আগে ব্যাংক থেকে আমাকে ফোনও করেনি। এ ঘটনায় আজ (মঙ্গলবার) সকালে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় জিডি করেছি। পুলিশের পরামর্শে দুদকে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

ব্যাংকের ওই শাখায় কর্মরত এক ব্যক্তি জানান, ঘটনার দিন বিকেল ৪টার কিছুক্ষণ আগে মাথা, হাত ও পায়ে ব্যান্ডেজ করা একজন গ্রাহক টাকা উত্তোলন করতে আসেন। তিনি একটি চেক নিয়ে ক্যাশিয়ার বিশ্বজিতের কাছে গেলে স্বাক্ষরে গরমিল আছে বলে চেকে গ্রাহকের আরেকটি স্বাক্ষর নেন। এরপর সেকেন্ড অফিসার জাহিদুল ইসলাম চেকটি অনুমোদন করে দেন। এক পর্যায়ে ওই গ্রাহক গণনা ছাড়াই টাকা নিয়ে ব্যাংক থেকে চলে যান।

ঘটনার দিন ম্যানেজার মালেকা ফারাহ দীবা ব্যাংকে ছিলেন না। সে সময় দায়িত্বে থাকা সেকেন্ড অফিসার জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের ব্যাংকের পেছনের দিকের একটি ভেন্টিলেটর ভেঙে সিসিটিভির হার্ডডিস্ক পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তাই ওইদিন কে টাকা উত্তোলন করেছিল, ফুটেজে বিষয়টি দেখতে পাচ্ছি না। এ ঘটনায় সোমবার তিনি সদর দক্ষিণ মডেল থানায় জিডি করেছেন।

ওই শাখার ম্যানেজার মালেকা ফারাহ দীবা সমকালকে বলেন, ঘটনাটির তদন্ত চলছে। এখন এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারব না। পূবালী ব্যাংক কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক লতিফুর রহমান সমকালকে বলেন, ওই গ্রাহকের উচিত ছিল প্রথমে ব্যাংকে লিখিত অভিযোগ করা। তিনি সেটা করেননি। এরপর আমরা নিজ উদ্যোগে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছি। আজ (মঙ্গলবার) আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে তদন্ত দল সেখানে গেছে। বুধবার ঢাকার প্রধান কার্যালয় থেকে তদন্ত দল সেখানে যাবে।