টাকা নিয়ে থানা থেকে চারজনকে ছাড়ালেন আ'লীগ নেতা!

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থানায় নারীসহ এক পরিবারের চার সদস্যের আটকের পর তাদের ছাড়ানোর কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। কয়েক মাস আগে ওই চারজন থানায় তিন দিন আটক ছিলেন।

ভুক্তভোগীদের একজন উপজেলার চর মরিচাকান্দি গ্রামের কাঠমিস্ত্রি সেলিম মিয়া ওই টাকা ফেরত ও নিরাপত্তা চেয়ে গতকাল মঙ্গলবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১ নভেম্বর রাতে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার এসআই রফিকুল ইসলাম, এএসআই আশরাফুল আলম, মনিরসহ একদল পুলিশ ভুক্তভোগীদের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় ওই বাড়ি থেকে সেলিম মিয়া, তার ভাই হালিম মিয়া, তার স্ত্রী স্মৃতি বেগম এবং মামাতো ভাই মোস্তফাকে ওসি ডেকেছেন বলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং তিন দিন আটকে রাখা হয়। এই সুযোগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য চর মরিচাকান্দি গ্রামের আরিফ বিল্লাহ মানিক তাদের থানা থেকে বের করার নামে এক লাখ ৪৯ হাজার টাকা নেন। তিন দিন পর সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। তাদের সঙ্গে থাকা চারটি মোবাইল ফোন ও হালিম মিয়ার জাতীয় পরিচয়পত্র থানা থেকে মানিক নিয়ে যান।

মানিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এগুলো ফেরত দিতে আরও ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। একাধিকবার মানিকের বাড়িতে গেলেও টাকা ছাড়া এগুলো দেননি। উল্টো তাদের মিথ্যা মামলা ও মারধরের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়। মানিক বলেন, তাদের ছাড়িয়ে আনতে থানায় গিয়েছিলাম, তবে তাদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেইনি। তাদের মোবাইল ফোন ও জতীয় পরিচয়পত্র আমার কাছে নেই। তাদের কোনো রকমের ভয়ভীতি আমি দেখাইনি।

বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম জানান, শুনেছি তাদের আটকের ঘটনায় চর মরিচাকান্দি গ্রামের মানিক তাদের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নিয়েছেন। তবে আমরা কোনো টাকা নেইনি। বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি রাজু আহমেদ বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।