শহরে গ্রামীণ পিঠার স্বাদ

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সমকাল প্রতিবেদক

প্রতিবারের মতো এবারও শিল্পকলা একাডেমির পিঠা উৎসবের প্রথম দিনই বন্ধুদের নিয়ে পিঠা খেতে চত্বরে চলে এসেছেন সেগুনবাগিচার বাসিন্দা সুবর্ণ গ্রন্থি। 'শাহি নকশি ভাপা' পিঠা খেতে খেতেই বললেন, 'আমার বাড়ি টাঙ্গাইল। বাড়িতে পিঠা খাওয়া হলেও উৎসবটা বেশ উপভোগ করি।'

গ্রন্থির মতো আরও শত শত মানুষ পিঠা খেতে ও আয়োজন দেখতে এসেছিলেন উৎসবের প্রথম দিনে। প্রথম দিন বলে আয়োজকদের সবাই পুরোপুরি সাজিয়ে উঠতে পারেননি স্টল। তবে বেশিরভাগ গোছানো স্টলেই দেখা যায় বিচিত্র নামের নানা স্বাদের পিঠার আয়োজন। 'ঝাল জামাই', 'কুসুমকলি', 'ঝাল মালপোয়া', 'মেরাপিঠা'সহ এমন অপ্রচলিত নামের পিঠার সঙ্গে প্লাস্টিকের স্বচ্ছ কাগজে ঘেরা থালায় সাজানো রয়েছে অতি চেনা 'চুষিপিঠা' এবং 'দুধপুলি'ও।

স্ট্রিট ফটোগ্রাফার নাজমুস সাকিব পাশের একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী থেকে সরাসরি এসেছেন পিঠা খেতে। বললেন, 'ঢাকাতে থাকলেও পিঠা উৎসবে আমার কখনও আসা হয়নি। এখানে এসে মনে হলো, পিঠার মধ্যেও সৃজনশীলতা চলে এসেছে।'

উদ্বোধনের আগেই ভিড় লেগে গিয়েছিল উৎসবে। তাই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাট্যজন আতাউর রহমান রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, 'আমি ভেবেছিলাম মহামারির প্রকোপে পিঠা উৎসব হবে না। অথচ আজ দেখছি প্রচুর মানুষ এখানে এসেছে। কথায় বলে জীবন চর্চা নয়, জীবন চর্যা। আমাদের এই জীবন চর্যার একটা বিরাট উৎসব হলো পিঠা উৎসব। বাঙালি আধপেট খেয়েও পুথিপাঠে যায়।'

শিল্পকলা একাডেমির কফি হাউস প্রাঙ্গণীর সামনে অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ১০ দিনব্যাপী 'চতুর্দশ জাতীয় পিঠা উৎসব ১৪২৭' উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে দেন পিঠা উৎসব উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী মঞ্চসারথি আতাউর রহমান ও নৃত্যগুরু আমানুল হক। লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় পিঠা উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি ম. হামিদ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন শিল্পকলা একাডেমির সচিব নওসাদ হোসেন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন পিঠা উৎসব উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শাহ্‌ আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কে এম খালিদ বলেন, 'আমরা গ্রামে আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে পিঠা উৎসব করতাম। এখন নানা ব্যস্ততায় সবাই একসঙ্গে উৎসব পালন করতে পারি না। সেই উৎসবটি এখন শহরের চার দেয়ালের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটা ভালো দিক।' তিনি আরও বলেন, 'সংস্কৃতি চর্চার জায়গাটি কভিড মহামারির কারণে প্রায় বন্ধ ছিল। আমরা অবশ্য এরই মধ্যে করোনাকে প্রায় জয় করে ফেলেছি। ১৩১টি দেশ এখনও টিকা পায়নি, আমরা পেয়েছি।'

এবারের উৎসবে প্রায় ৫০টির মতো স্টল সাজানো হয়েছে। এতে প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রায় ২০০ রকমের বাহারি পিঠা পরিবেশন করা হবে। উৎসব আঙিনায় প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবারের উৎসবে সহযোগিতা করছে স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কোম্পানি লিমিটেড। ঢাকায় এ উৎসব চলবে ৪ মার্চ পর্যন্ত। অন্য বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামে ৯ থেকে ১৩ মার্চ, খুলনায় ১২ থেকে ১৬ মার্চ এবং বরিশালে ১৭ থেকে ২০ মার্চ উৎসবের আয়োজন করা হবে।