বাবার মর্মান্তিক মৃত্যু দেখলেন মানসিক প্রতিবন্ধী জুয়েল

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

বগুড়া ব্যুরো ও সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

একা ছাড়লে হারিয়ে যাবে- এই ভয়ে মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে সব সময় সঙ্গে রাখতেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। গতকালও তাকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে যাবেন। কিন্তু পথে বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ফজলুর রহমান (৭০)। চোখের সামনে বাবার মর্মান্তিক মৃত্যু দেখে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন প্রতিবন্ধী জুয়েল।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে সিরাজগঞ্জের কোনাবাড়ী এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ফজলুর রহমান ছাড়াও নিহত হয়েছেন আরও চারজন। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। এ ছাড়া রাজশাহী ও গাইবান্ধা জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় দু'জন নিহত হয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল ইসলাম জানান, কোনাবাড়ী কলেজ মোড়ে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহগামী যুগান্তর পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী ভোজ্যতেল বহনকারী একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। নিহত অন্যরা হলেন- বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বেতগাড়ি গ্রামের বিমল কুমার (৪৫), সারিয়াকান্দি উপজেলার হাসনারপাড়া গ্রামের খোকন মিয়া (৪০), শিবগঞ্জ উপজেলার করতকলা গ্রামের মানিক হোসেন এবং সিরাজগঞ্জের বেলকুচির তামাই গ্রামের আব্দুল হান্নান (৬০)। পুলিশ কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হতাহতদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে প্রায় দু' ঘণ্টা যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফজলুর রহমান সেনাবাহিনীতে সার্জেন্ট হিসেবে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে বগুড়ার মাঝিড়া ক্যান্টমেন্টের বি-ব্লক এলাকায় জমি কিনে বাড়ি করেন। অবসর নেওয়ার পর সেখানেই থাকতেন। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে জুয়েল বড়। মানসিক প্রতিবন্ধী ২৫ বছর বয়সী জুয়েল এর আগে একাধিকবার হারিয়ে গিয়েছিলেন। তাই তাকে একা ছাড়তেন না ফজলুর রহমান। গতকাল গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য মাঝিড়া থেকে ময়মনসিংহগামী একটি বাসে ওঠেন বাবা-ছেলে। তাদের বাসটি কোনাবাড়ী এলাকায় পৌঁছালে দুর্ঘটনায় পড়ে। বুকে ও পাঁজরে বাসের সিটের রড বিঁধে প্রাণ হারান ফজলুর রহমান। আহত হন জুয়েলও। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বাবার মৃত্যুর পর জুয়েলের দায়িত্ব কে নেবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ফজলুর রহমানের জামাতা বশির আহম্মেদ জানান, জুয়েলকে তার বাবাই সব সময় আগলে রাখতেন।

রাজশাহী ব্যুরো জানায়, সিটি করপোরেশনের বর্জ্য পোড়ানোর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাইপাস সড়কে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ট্রাকচালক জামানুর রহমান সবুর (৪০) নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৯ জন। নিহত সবুরের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, রাজশাহী নগরীর বর্জ্য সিটি বাইপাস এলাকায় নিয়মিত ফেলা হয়। এসব বর্জ্য পোড়াতে আগুন দেওয়া হয়েছিল। এ সময় তীব্র ধোঁয়ার কারণে সড়কে কিছু দেখা যাচ্ছিল না। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মামুন মো. ডলার বলেন, তাদের পক্ষ থেকে বর্জ্য পোড়ানো হয়নি। অন্য কেউ আগুন দিতে পারে। নগর পুলিশের শাহ মখদুম থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সরকার জানান, বিষয়টি সিটি করপোরেশনকে জানানো হয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় গতকাল ট্রলির ধাক্কায় আব্দুল কুদ্দুস মিয়া (৩৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। তার বাড়ি উপজেলার শান্তিরাম ইউনিয়নের পশ্চিম পরান গ্রামে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ট্রলিচালক আতিকুর রহমানকে আটক করেছে।