মানবাধিকার কমিশন আইন সংশোধন নিয়ে সভা

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সমকাল প্রতিবেদক

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯-এর সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর মতবিনিময় সভা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ 'আইনি গবেষণার মাধ্যমে তারতম্যমূলক আইন ও নীতি চিহ্নিতকরণপূর্বক সংস্কার শীর্ষক প্রকল্প' এ সভার আয়োজন করে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও কার্যকর, গতিশীল ও শক্তিশালী করতে প্রস্তাবনার ওপর বিস্তারিত আলোচনা হয়। আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সভাপতিত্বে সভায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব মো. মইনুল কবির, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, কমিশনের সদস্য, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন বিধান সংশোধনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ১. 'শৃঙ্খলা বাহিনী'র সংজ্ঞা হতে পুলিশ বাহিনীকে বাদ দেওয়া, ফলে মানবাধিকার কমিশন সাধারণ নিয়মে পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে উত্থাপিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও অনুসন্ধান করতে পারবে; ২. কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য একজনের পরিবর্তে তিনজন করা; ৩. কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মেয়াদ তিন বছরের পরিবর্তে পাঁচ বছর করা; ৪. কমিশনের অবৈতনিক সদস্যদের আর্থিক সুবিধা ব্যতীত হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের মর্যাদা প্রদান; ৫. কমিশনকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া; ৬. কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতন, ভাতা, চাকরির সুবিধাদি সরকারি কর্মচারীদের অনুরূপ করা; ৭. কমিশনের 'সচিব' পদের নাম 'মহাপরিচালক' করা এবং ৮. কমিশনের তহবিল-সংক্রান্ত বিধান বাতিলের প্রস্তাব।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকার কমিশনকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালীকরণের উদ্দেশ্যে আনীত প্রস্তাবগুলো সময়োপযোগী। তবে কতিপয় প্রস্তাবের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারণী বিষয় জড়িত।