ইমক্যাবের আলোচনায় তথ্যমন্ত্রী

ভারতের বিরোধিতা করে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

ভারতের বিরোধিতা করে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়

মঙ্গলবার তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইমক্যাব আয়োজিত 'বঙ্গবন্ধু :বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পিআইডি

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ভারতের বিরোধিতা করে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশে বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল আছে, যাদের রাজনীতির মূল বিষয় হচ্ছে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভারত-বিরোধিতা করা। যখন নির্বাচন আসে তখনই ভারত-বিরোধিতাকে সামনে এনে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করে তারা। তাদের অযৌক্তিক ভারত-বিরোধিতার কারণে দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে 'বঙ্গবন্ধু :বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক' শিরোনামে ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েসন (ইমক্যাব) আয়োজিত আলোচনায় সভায় এ কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের বড় ব্যবসায়িক অংশীদার। পর্যটন শিল্পে তাদের জন্য বাংলাদেশ একটি বড় মার্কেট। দুই দেশের এই সম্পর্ক যত নিবিড় হবে, জনগণই তত বেশি উপকৃত হবে। সব সন্দেহ পেছনে ফেলে যৌথভাবে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে আমাদের।

সংগঠনের সভাপতি বাসুদেব ধরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের মহাসচিব ও লেখক হারুন হাবিব। আলোচনায় আরও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দেশ যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উল্টো পথে হাঁটা শুরু করেছিল, তখন থেকেই ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলে ভোট টানার অপরাজনীতি শুরু হয়েছে। তবে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব কেন জরুরি সেটা যুক্তি ও বাস্তবতার নিরিখে বুঝতে হবে। বাংলাদেশের সীমানার তিন দিকে তারা। ভারতই ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের সময় ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সেনারা রক্ত দিয়েছেন। তাদের সহযোগিতা ছাড়া ৯ মাসের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধে আমাদের জয় লাভ করা সম্ভব ছিল না। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাদের কূটনৈতিক তৎপরতা ছাড়া বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করা সম্ভব ছিল না।

ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার জায়গা আসলে এক। এ কারণে দু'দেশের সম্পর্কে সব ধরনের অবিশ্বাস, সন্দেহ দূর করে যৌথভাবে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে গেলে উভয়ের জনগণই উপকৃত হবে। তিনি বলেন, ভারতের নীতিতে প্রতিবেশীই প্রধান। এই প্রতিবেশীদের মধ্যে বাংলাদেশ সবার আগে। এই মুহূর্তে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ভারতের বড় ব্যবসায়িক অংশীদার। পর্যটন শিল্পের কথা বিবেচনা করলে বাংলাদেশ ভারতের জন্য বড় মার্কেট। ভারত চায় এ দেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য আরও বাড়াতে।