করোনায় মৃতদের লাশ দাফনের জন্য যখন কাউকে পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন তারা এগিয়ে গেছেন নির্ভীকচিত্তে। যখন মা-বাবাকে ছেড়ে সন্তান বা সন্তানকে ছেড়ে মা-বাবা চলে গেছেন, তখন অনাত্মীয় হয়েও তারা পাশে দাঁড়িয়েছেন। নিজের পরিবার, জীবন-জীবিকা ভুলে নেমে পড়েছেন মানবতার কল্যাণে। অসুস্থদের চিকিৎসা, দুস্থদের খাবার বিতরণ, মৃতের গোসল-জানাজা থেকে দাফন- সবই করেছেন। মানবতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ সেই অগ্রণী যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।

পুনাক সভানেত্রী জীশান মীর্জার সভাপতিত্বে রাজধানীর রমনায় পুনাক ভবনের সম্মেলন কক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জীশান মীর্জা বলেন, স্বপ্রণোদিত হয়ে যারা করোনায় মৃতদের লাশ দাফন ও সৎকার করেছেন, তাদের সম্মাননা জানাতে পেরে পুনাক গর্বিত। করোনায় যখন পৃথিবী স্থবির হয়ে পড়েছিল, তখন পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) দিকনির্দেশনায় সব পুলিশ সদস্য রাস্তায় নেমে এসেছেন। তারা মানবসেবায় ব্রতী হয়েছেন। করোনায় দায়িত্ব পালনকালে এ পর্যন্ত পুলিশের ৮৬ সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন।

মানবকল্যাণে এগিয়ে আসার জন্য সব দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান পুনাক সভানেত্রী। করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসায় কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে সক্ষম হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে ১৯ স্বেচ্ছাসেবীকে সম্মাননা স্মারক ও আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। সম্মাননা পাওয়া ব্যক্তিরা করোনাকালে লাশ দাফন/সৎকার, অসহায় পরিবারের মধ্যে খাবার বিতরণ ও টেলিমেডিসিন সেবা দিয়েছেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পুনাকের প্রচার ও সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা নাসিম আমিন।

মন্তব্য করুন