সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবিতে খুলনায় বিএনপির সমাবেশ আজ শনিবার। তবে গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত সমাবেশের অনুমতি পায়নি বিএনপি। অনুমতি না পেলেও নগরীর শহীদ মহারাজ চত্বরে সমাবেশ আয়োজনের জন্য প্রচার ও প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

বিভাগীয় শহরগুলোতে বিএনপি ঘোষিত সমাবেশ কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনায় এ সভা হচ্ছে।

এদিকে, খুলনা থেকে আন্তঃজেলার ১৮টি সড়কে পরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। খুলনা জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সোনা জানান, বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। তাই শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে। খুলনার অভ্যন্তরীণ নৌপথে ট্রলার চলাচলও বন্ধ করা হয়েছে।

খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করেছেন, সমাবেশকে বানচাল করতে সরকার অরাজনৈতিক পথে হাঁটছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত তিন দিনে ২৭ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নেতাকর্মীরা যাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে সমাবেশে আসতে না পারেন, এ জন্য বাস ও ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এখনও আশা করছি সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পাশাপাশি আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি দেওয়া হবে।

বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সমাবেশের জন্য চারটি স্থানের অনুমতি চেয়েছিল বিএনপি। বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীদের আসার জন্য বাসও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ ধরপাকড় ও বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় কিছুটা বিপাকে পড়েছেন নেতারা। শেষ মুহূর্তে অনুমতি পাওয়া যাবে- এমন আশা থেকেই মহারাজ চত্বরে সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মাসুদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, 'হাদিস পার্ক, কয়েকটি সড়কসহ যেসব স্থানে বিএনপি সমাবেশের অনুমতি চেয়েছে, সেগুলো কেসিসি নিয়ন্ত্রিত। এ ছাড়া করোনাকালে উন্মুক্ত স্থানে এমন সমাবেশ কীভাবে সম্ভব? সেখানে সামাজিক দূরত্ব তো নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, সামাজিক দূরত্ব মেনে দলীয় কার্যালয় অথবা যে কোনো কমিউনিটি সেন্টারে সভা করলে পুলিশ সব ধরনের সহযোগিতা করবে। তিনি আরও বলেন, সমাবেশকে কেন্দ্র করে কাউকে আটক করা হয়নি। নিয়মিত মামলার আসামিদেরই আটক করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন