খুলনা নগরীর বাবু খান সড়কে ড্রেন নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল গত বছরের আগস্ট মাসে। গত ৭ মাসে অর্ধেক কাজও শেষ হয়নি। সড়কের অপর প্রান্তে আহসান আহমেদ সড়ক ও শামসুর রহমান সড়ক। এই সড়ক দুটিতেও কাজ চলছে। ড্রেন নির্মাণের জন্য গর্ত খুঁড়ে কাদামাটি সড়কের ওপর রাখা রয়েছে। রাখা হয়েছে নির্মাণসামগ্রীও। ফলে গত পাঁচ মাস নগরীর গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সড়ক একরকম বন্ধ।

শুধু এই তিনটিই নয়; শুস্ক মৌসুমে নগরীর অধিকাংশ এলাকায় খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) উন্নয়ন কাজ চলছে। বিশেষ করে ড্রেন নির্মাণ কাজ চলছে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়। এতে মাসের পর মাস সড়কগুলো বন্ধ থাকছে। সব ধরনের যানবাহন বিকল্প সড়ক দিয়ে যাওয়ায় সেখানে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।

কেসিসিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় নগরীর ৯টি সড়কের দুই পাশে ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৭টি সড়কের কাজ চলছে। চলতি মাসে আরও ৬টি সড়কের কাজ শুরু হবে। এই প্রকল্পে আরও ১৮টি সড়কে ছোটখাটো কাজ চলছে। এর পাশাপাশি বিএমডিএফের অর্থায়নে ৩টি সড়কে ড্রেন, ফুটপাত ও সড়ক উন্নয়নের কাজ চলছে। সব কাজ একসঙ্গে চলায় দুর্ভোগ বেড়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, নগরীর ফারাজীপাড়া লেনে ড্রেনের কাজ চলছে। কাজ চলছে শামসুর রহমান সড়ক ও সিমেট্রি রোডেও। যার ফলে এসব এলাকার মানুষকে দীর্ঘ পথ ঘুরে বাড়িতে প্রবেশ করতে হচ্ছে। বাবু খান সড়কে কমার্স কলেজের দুই পাশেই ড্রেনের কাজ চলায় সাউথ সেন্ট্রাল রোডে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। তাদের হাজী মহসিন সড়ক ঘুরে বাড়িতে আসতে হচ্ছে।

আহসান আহমেদ সড়কের বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম বলেন, এই একটি সড়কে দুটি স্কুল, অসংখ্য কোচিং সেন্টার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। গত ৬ মাস দিনের অর্ধেকটাই সড়কে যানজট থাকে। বাবু খান রোডের ব্যবসায়ী সুজন আহমেদ বলেন, উন্নয়নের জন্য কিছুটা ভোগান্তি সবাই মেনে নিচ্ছেন। কিন্তু প্রতিটি কাজেই ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী লিয়াকত আলী খান বলেন, করোনার কারণে গত বছর দীর্ঘ সময় উন্নয়ন কাজ বন্ধ ছিল। এ কারণে বন্ধ থাকা প্রায় সব কাজ একসঙ্গে শুরু হয়েছে। এ ছাড়া শুস্ক মৌসুমে ড্রেনের কাজ না করলে বর্ষা মৌসুমে এ কাজ করা যায় না। এ জন্য ড্রেনের কাজগুলো একসঙ্গে চলছে। তিনি বলেন, ট্রাফিক বিভাগসহ স্থানীয় কাউন্সিলরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। যাতে মানুষের বিকল্প পথ দিয়ে যাতায়াত সহজ হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ভাগ ভাগ করে কাজ করা হচ্ছে। যে অংশের কাজ শেষ হচ্ছে, ওই অংশ উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য করুন