তিন দিন আগে গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাট থেকে রাজধানীর আদাবরে ছেলে সোহেল রানা সালেকের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন মা সালমা বেগম (৬০)। তার সঙ্গে এসেছিল দুই ভাগ্নি রিনতা মনি (১২) ও এলিনা জাহান রিমা (১৪)। বেড়ানো শেষে গতকাল সোমবার ভোরে সালেক নিজের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে মা ও ভাগ্নিদের নিয়ে যাচ্ছিলেন আশুলিয়ায় বোনের বাসায়। অটোরিকশাটি রূপনগরের বেড়িবাঁধ পানির পাম্প এলাকায় যেতেই পেছন থেকে ট্রাকের ধাক্কায় তা দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে সালেকের চোখের সামনেই প্রাণ হারায় ছোট্ট রিনতা, হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান তার মা সালমা বেগম। আরেক ভাগ্নিসহ আহত হন তিনি।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, আহত অটোরিকশা চালক সালেককে শেরেবাংলা নগরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে হয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি শুধু জানেন, তার অটোরিকশাটি দুর্ঘটনায় পড়েছে। ঘুরতে বেরিয়ে মা ও ভাগ্নিকে যে হারিয়েছেন, তা তখনও জানতে পারেননি। আহত অপর ভাগ্নি রিমাকে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে বাসায় নেওয়া হয়েছে।

রূপনগর থানার এসআই লোকমান হোসেন জানান, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। তখন বেড়িবাঁধের ওপর দুমড়েমুচড়ে থাকা অটোরিকশাটি পড়ে থাকতে দেখেন। ওই সময় রাস্তার পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় সালমা বেগম ও তার ছেলে সালেক পড়ে ছিলেন। দুর্ঘটনায় পড়া অটোরিকশাটির প্লাস্টিকের ছাউনি কেটে ভেতরে দু'জন শিশুকে দেখা যায়। চারজনকে দ্রুত উদ্ধারের সময়ে দেখা যায়, রিনতা নামের শিশুটি আগেই মারা গেছে। আহত সালমার মাথায় আঘাত পাওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, অত সকালে ঘটনাস্থলে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া যায়নি। তবে ওই সময় বেড়িবাঁধ দিয়ে মালবাহী ট্রাক ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন তেমন চলাচল করে না। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাকের ধাক্কাতেই এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

সালেকের বোন শিউলি আক্তার জানান, তিনি আশুলিয়ার জামগড়ায় থাকেন। মা ও ভাগ্নিদের নিয়ে ছোট ভাই নিজের অটোরিকশায় করে তার বাসাতেই আসছিল। পথেই তাদের সব শেষ হয়ে যায়।

মন্তব্য করুন