পাঠ্যপুস্তক ও প্রকাশনাসহ ইতিহাসের সব ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথার পাশাপাশি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের সহযোগীদের নৃশংসতার বিবরণ সমানভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিস্টজন। পাশাপাশি পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং একাত্তরের ২৫ মার্চ গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের আন্দোলন জোরদার করারও আহ্বান জানানো হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে গতকাল সোমবার 'মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা সংরক্ষণ ও বিকাশ :সরকার ও নাগরিক সমাজের করণীয়' শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে বিশিষ্টজন এ আহ্বান জানান। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে আরও বক্তব্য দেন ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের সভাপতি নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক লে. কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বীরপ্রতীক, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. আমজাদ হোসেন, সমাজকর্মী আরোমা দত্ত এমপি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মফিদুল হক, শিক্ষাবিদ মমতাজ লতিফ, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মারুফ রসুল ও নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ইতিহাসে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথার পাশাপাশি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের সহযোগীদের নৃশংসতার বিবরণ সমানভাবে থাকতে হবে। সকল পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পাঠ বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি পাঠ্যসূচিতে ৫০ নম্বর মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা এবং ৫০ নম্বর থাকতে হবে প্রতিপক্ষের ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের ভয়াবহতা ও নৃশংসতার কথা। এর ফলে তরুণ প্রজন্ম বুঝতে পারবে তারা কোন পক্ষে থাকবে। এসব বিষয়ে শুধু আইন করে হবে না, জনমত গঠন করতে হবে।

সভাপতির বক্তৃতায় শাহরিয়ার কবির বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য হচ্ছে- গত ৫০ বছরে অধিকাংশ সময় এ দেশ শাসিত হয়েছে স্বাধীনতাবিরোধী এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিনাশী মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তির দ্বারা।

রামেন্দু মজুমদার বলেন, সকলের অবহেলা উদাসীনতায় সমাজ মৌলবাদীদের দখলে চলে গেছে। সাম্প্রদায়িকতা বহুগুণে বেড়েছে। সাম্প্রদায়িকতার হাত ধরে জঙ্গিবাদ এসেছে। বঙ্গবন্ধু ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ করেছিলেন, জিয়াউর রহমান চালু করেছেন। ফলে সমাজ বার বার পিছিয়ে পড়ছে।

শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, মাদ্রাসায় এবং অন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০০ নম্বরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনার পাঠ বাধ্যতামূলক করতে হবে।

কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বীরপ্রতীক বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের কবর অনেক জায়গায় হারিয়ে গেছে। এগুলো শনাক্ত ও সংরক্ষণ করা দরকার।

মুক্তিযুদ্ধগবেষক মফিদুল হক বলেন, ধর্মান্ধতা শুধু জঙ্গিবাদকে উসকে দিচ্ছে না, ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা ছড়াচ্ছে। একটি পুনর্জাগরণের ডাক দেওয়া দরকার, যা একমাত্র একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি দিতে পারে।

মন্তব্য করুন