আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় আলীম বাহিনীর সঙ্গে আনোয়ার বাহিনীর দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। কিছুদিন আগেও আনোয়ার হোসেনের বড় ছেলে সোহেল ও তার সহযোগীরা আলীমকে মারধর করে। ঘটনাটি সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে মীমাংসাও করা হয়। তাতেও ক্ষোভ মেটেনি আলীমের। সেই ক্ষোভ থেকে আনোয়ার হোসেনকে শায়েস্তা করতে বুধবার রাতে তার ছোট ছেলে মো. জুয়েলকে স্থানীয় একটি রিসোর্টে ডিনার পার্টিতে দাওয়াত দেওয়া হয়। পার্টিতে যাওয়ার সময় আলীম, সেলিমসহ তার সহযোগীরা জুয়েলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মনদপুরের আন্দিরপাড়ে শাইরা গার্ডেনের সামনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

এ ঘটনার জের ধরে বুধবার মধ্যরাতে দু'পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। হত্যার জন্য দায়ী আলীম এবং তার সহযোগীদের বেশ কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। পুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ মদনপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার শাহজালালের স্ত্রী শাহনেওয়াজ বেগম ও তার ছেলে ইয়াছিনকে আটক করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জুয়েলের লাশ নিয়ে মদনপুরে এশিয়ান হাইওয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী। এ সময় সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্বিতীয় দফায় জুয়েলকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশ ও মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীকে শান্ত করে। তারা অবরোধ তুলে নিলে দুপুর আড়াইটায় ওই সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।\হবন্দর থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, এ ঘটনায় দু'জনকে আটক করা হয়েছে। লাশ দাফন করে নিহতের স্বজনরা থানায় মামলা করবেন।

মন্তব্য করুন