ধর্মপাশার ওসি দেলোয়ার হোসেনের উপস্থিতিতেই দলীয় কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষমাণ বিক্ষুব্ধ হেফাজত সমর্থকদের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা আফজাল খানকে। এ সময় আফজালকে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতেও বাধ্য করে পুলিশ।\হঅবশ্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত এসআই ও এএসআই এ ঘটনায় একে অপরকে দোষারোপ করেছেন।

আফজাল খানকে জয়শ্রী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে যখন অবরুদ্ধ করা হয়, তখন খবর পেয়ে ধর্মপাশা থানার এসআই জহিরুল ইসলাম ও এএসআই আনোয়ার হোসেন সেখানে পৌঁছান। এ সময় এএসআই আনোয়ার হোসেন আফজাল খানের সঙ্গে কার্যালয়ের ভেতরে এবং এসআই জহিরুল ইসলাম বাইরে অবস্থান করছিলেন। পরিস্থিতির অবনতি হলে ধর্মপাশা থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আফজাল খানকে দলীয় কার্যালয় থেকে বের করে আনেন। এএসআই আনোয়ার হোসেন আফজালের হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেন এবং ওসি দেলোয়ার হোসেনের উপস্থিতিতেই দলীয় কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষমাণ বিক্ষুব্ধ জনতার মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়। এ সময় তাকে জনতার কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করে পুলিশ। এ ঘটনায় বুধবার রাতে এসআই জহিরুল ইসলাম ও এএসআই আনোয়ার হোসেনকে ক্লোজ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ওসি দেলোয়ার হোসেনকেও প্রত্যাহার করা হয়।\হধর্মীয় অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ এনে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাবির সমাজকল্যাণ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ও ঢাবি ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপসম্পাদক আফজাল খানকে জয়শ্রী বাজারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম আলমের ছেলে আল মুজাহিদ লাঞ্ছিত করে তাকে কিল-ঘুষি মারে। এ সময় মুজাহিদের বাবা আবুল হাসেম সেখানে উপস্থিত হয়ে আফজালকে জোরপূর্বক স্থানীয় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরে মুজাহিদ ও তার বাবা আফজালের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবমাননার গুজব ছড়িয়ে স্থানীয় মাদ্রাসাসহ তার অনুসারীদের ফোন দেন। এতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাসহ অনেকেই দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো\হহয়ে আফজালের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। বুধবার বিকেলে আবুল হাসেমকে দল থেকে বহিস্কার করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। এ ঘটনায় আফজাল খান সেদিনই আল মুজাহিদসহ ২৯ জনকে আসামি করে ধর্মপাশা থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেছেন। পরে রাতেই আবুল হাসেম ও রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আফজাল খান বলেন, 'আমাকে দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে এএসআই আনোয়ার হোসেন হাতকড়া পরান। বাইরে এসে ক্ষমা চাওয়ার পর দেখি ওসি এখানে উপস্থিত রয়েছেন।' এএসআই আনোয়ার হোসেন বলেন, 'সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা এসআই জহিরুল ইসলামের নির্দেশে আমি হাতকড়া লাগিয়েছি। সিনিয়রের নির্দেশ তো মানতেই হয়।'

এমন অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই জহিরুল ইসলাম বলেন, 'জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এএসআই আনোয়ারকে কার্যালয়ের ভেতরে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু হাতকড়া পরানোর জন্য আমি নির্দেশনা দেইনি।

মন্তব্য করুন