ফরিদপুরের সালথায় সহিংসতার ঘটনায় আরও চারটি মামলা হয়েছে। আগেরটিসহ মোট পাঁচ মামলায় ১৭ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দায়ের হওয়া নতুন চারটি মামলার বাদী যথাক্রমে বীর মুক্তিযোদ্ধা বাচ্চু মাতুব্বর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়িচালক হাশমত আলী, এসিল্যান্ড কার্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষী সমীর বিশ্বাস ও এসিল্যান্ডের গাড়িচালক সাগর সিকদার। এর আগে বুধবার সালথা থানার এসআই মিজানুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেন। পুলিশ গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

মুক্তিযোদ্ধা বাচ্চু মাতুব্বরের মামলায় ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামি ৭০০-৮০০ জন। ইউএনওর গাড়িচালক হাশমত আলীর মামলায় আসামি তিন থেকে চার হাজার। তাদের মধ্যে নাম উল্লেখ আছে ৫৮ জনের। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষী সমীর বিশ্বাস ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাত তিন থেকে চার হাজার জনকে। উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িচালক সাগর সিকদার ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ তিন-চার হাজার জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেছেন।

এর আগে বুধবার সালথা থানার এসআই মিজানুর রহমান বাদী হয়ে ৮৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং চার হাজার জনকে অজ্ঞাতনামা দেখিয়ে থানায় হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে প্রথম মামলাটি করেন। এ পর্যন্ত যে পাঁচটি মামলা করা হয়েছে, তাতে নাম উল্লেখ করা হয়েছে ২৬১ জনের। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১৬ হাজার ৮০০ জনকে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও তদন্ত) জামাল পাশা জানান, সালথায় সহিংসতায় জড়িত সন্দেহে গতকাল আরও ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ২৬। ১১ জনকে বুধবার দু'দিন করে রিমান্ড দিয়েছেন। বাকি ১৫ জনকে সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে গতকাল জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়।

সোমবার একটি গুজবকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতা, যাদের বেশির ভাগই জামায়াত-হেফাজত অনুসারী উপজেলা পরিষদ, থানা, এসিল্যান্ডের কার্যালয়, ইউএনওর বাসভবন, উপজেলা কৃষি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পুড়িয়ে দেওয়া হয় ইউএনও ও এসিল্যান্ডের গাড়ি। ওই দিন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় দু'জনের প্রাণহানি হয়।

মন্তব্য করুন