কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পাঁচ মাস পর প্রসূতি শারমিন আক্তারের পেট থেকে গজ (মপ) পাওয়ার ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। গতকাল বৃহস্পতিবার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহম্মেদ কবীরকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওই প্রসূতির পেট থেকে পাঁচ মাস পর গজ বের করার ঘটনার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ায় জেলা প্রশাসনের নির্দেশে এ তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কামরুন নাহার ভূঁইয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মঞ্জুর রহমান ও উপজেলা প্রাইভেট হাসপাতাল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ময়নাল হোসেন। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

শারমিন আক্তার জেলার মুরাদনগর উপজেলার মোগসাইর গ্রামের রাসেল মিয়ার স্ত্রী। গত বছরের ৫ নভেম্বর দেবিদ্বার উপজেলা সদরের আল ইসলাম হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তার সিজারিয়ান অপারেশন করেন ওই হাসপাতালের খণ্ডকালীন চিকিৎসক রোজিনা আক্তার। জন্ম হয় এক ছেলে সন্তানের। অপারেশনের সময় চিকিৎসক ভুলবশত পেটে রক্ত মোছার গজ রেখেই সেলাই করে দেন। প্রচণ্ড ব্যথায় ওই প্রসূতির অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে গত মঙ্গলবার রাতে ময়নামতি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন করে বের করা হয় গজটি। বর্তমানে শারমিন ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে গতকাল বিকেলে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহম্মেদ কবীর জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তারা তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারবেন বলে আশা করছেন। এ ছাড়া জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে।

মন্তব্য করুন