একদিকে আসন্ন রমজান, অন্যদিকে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সারাদেশে সরকার ঘোষিত লকডাউন- সব মিলিয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে শুরু হয়েছিল অস্থিরতা। অনিশ্চয়তা, উৎকণ্ঠা আর আতঙ্ক মিলিয়ে বাড়তি পণ্য কেনাকাটার দিকে ঝুঁকে পড়েছিলেন ক্রেতারা। তবে লকডাউনে কড়াকড়ি না থাকায় সেই ঝোঁক থেকে সরে এসেছেন তারা। ফলে গত বছরের মতো পণ্যমূল্য অস্থিতিশীল হয়নি। যদিও লকডাউনের আগে থেকে এখনও বেশিরভাগ নিত্যপণ্য চড়া দামে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।\হকরোনাভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন চলছে সারাদেশে। এই সময়ে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান এবং কাঁচাবাজার উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু রাখার সিদ্ধান্ত রয়েছে। এ ঘটনার আগে থেকেই চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেলসহ নানা পণ্য চড়া দামে বিক্রি হচ্ছিল। তবে সরকারি এ সিদ্ধান্তের পর বাজারে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, আলুসহ বিভিন্ন সবজির দামও বেড়ে যায়।\হদু'দিন ধরে বাজারে পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় বাড়তি দাম কমতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে টিসিবির পণ্য কেনাকাটার চাহিদা বেড়েছে। চলতি মাসের শুরুতে রমজান উপলক্ষে পণ্য বিক্রি শুরু করে টিসিবি। এই এক সপ্তাহ ধরে টিসিবির ট্রাকের সামনে পণ্য কিনতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষ। বাজারে পণ্যের দামের পরিস্থিতি এমন, এখন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে চৈত্রের রোদে পুড়েও কম দামে টিসিবির পণ্য কিনছেন। এ ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব মানছেন না কেউ।\হগতকাল বৃহস্পতিবার মিরপুর ১নং বাজার ও উত্তর পীরেরবাগ বাজার ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতারা স্বাস্থ্যবিধি না মেনে আগের মতোই চলাফেরা করছেন। বিক্রেতাদের অনেকের কাছে মাস্ক থাকলেও তা থুতনিতে কিংবা গলায় ঝুলছে। মিরপুর ১নং বাজারের ক্রেতা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. কামরুল ইসলাম বলেন, দিন দিন করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। তাই গত সপ্তাহের শুরুতে বেশকিছু পণ্য একসঙ্গে কিনে রেখেছি। কিন্তু পচনশীল পণ্য মাছ, মাংস ও সবজি কিনে মজুদ রাখা সম্ভব নয়। এসব পণ্য কিনতে বাজারে আসতেই হচ্ছে। কিন্তু মাস্ক পরে বাজারে ঢুকেও ঠেলাঠেলি করে কাঁচাবাজার করতে হচ্ছে। বাজারে এ অবস্থা থাকলে সংক্রমণ থামানো যাবে না। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

মিরপুর ১নং বাজারের ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান বলেন, বাজারে এখন মৌসুমের পর্যাপ্ত পেঁয়াজ রয়েছে। সরবরাহের চেয়ে ক্রেতা কম। লকডাউন ঘোষণায় অতিরিক্ত পেঁয়াজ কিনেছেন ক্রেতারা। এ কারণে তখন পেঁয়াজের টান পড়ায় দাম বেড়েছিল। এখন আবার স্বাভাবিক দামেই বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ।

গতকাল বৃহস্পতিবার দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে খুচরা কেজিপ্রতি ৩০-৩৫ টাকায়। এক দিন আগেও এর দাম ছিল ৪০-৪৫ টাকা। এখন পাইকারিতে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৮-৩০ টাকা। লকডাউন ঘোষণার পর যা ছিল ৩৫ টাকা। বাজা?রে নাজিরশাইল ও মিনিকেট চাল ৬২ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি চালের দাম কেজিতে দুই টাকা বেড়ে ৫৪-৫৮ টাকা হয়েছে। মোটা চালের দামও একই হারে বেড়ে কেজিপ্রতি ৪৮-৫২ টাকা হয়েছে। লকডাউন ঘোষণার পর চাহিদা বৃদ্ধিতে চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। খুচরায় এই চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে পাইকারি আড়তে বেড়ে যাওয়া চালের দাম আবার কমতে শুরু করেছে। খোলা সয়াবিন তেল লিটারে ৫ টাকা বেড়ে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি ৫ লিটারে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬৪০ থেকে ৬৬০ টাকায়। তবে বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি। প্রতি কেজি ঢেঁড়স, বেগুন, করলা, পটোল ও বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকায়। এ ছাড়া আলু, পেঁপে ও টমেটোর দাম কেজিপ্রতি এখন ২০-২৫ টাকা। প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৭০ টাকায়। উত্তর পীরেরবাগের সবজি বিক্রেতা মো. শাহজাহান বলেন, লকডাউন ঘোষণার পর থেকে আড়তে সবজির দাম অনেক বেড়েছে। লকডাউন শুরুর পর থেকে সবজি আড়তে কম আসছে। এ কারণে দাম বাড়ছে।

ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১০০টি খোলা ট্রাকে নিত্যপণ্য বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ঢাকা ছাড়াও সারাদেশে প্রায় ৫০০টি ট্রাকে আলাদা স্থানে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের চাহিদা থাকায় ট্রাকে আগের চেয়ে অনেক বেশি পণ্য দেওয়া হচ্ছে। বাড়তি চাহিদা থাকায় এসব দ্রুতই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।\হএদিকে লকডাউন ও রোজাকে কেন্দ্র করে সড়ক, নৌ ও রেলপথে কৃষিপণ্য পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে সংশ্নিষ্ট বিভাগে চিঠি দিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। এসব পণ্য পরিবহন সচল রাখার কথা জানিয়েছে সংস্থাগুলো। এই সময়ে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি ও ক্রেতাদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে বিক্রি শুরু করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

মন্তব্য করুন