দেশে 'সোলার হোম সিস্টেমে'র (সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা) সাফল্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারকে উৎসাহিত করছে। ৫৮ লাখ সোলার হোম সিস্টেম দুই কোটি প্রান্তিক মানুষকে আলোকিত করেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক গ্রন্থের ভার্চুয়াল প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের 'লিভিং ইন দ্য লাইট :দ্য সোলার হোম সিস্টেমস স্টোরি' শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা উপলক্ষে এ ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সবচেয়ে সম্ভাবনাময় উৎস হচ্ছে সৌরশক্তি। সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে, যার ২৫০ মেগাওয়াট এসেছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অফগ্রিড এলাকায় স্থাপিত সোলার হোম সিস্টেম থেকে। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে উৎসাহিত করতে নেট মিটারিং ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে। এ পদ্ধতিতে গ্রাহকের বিদ্যুৎ খরচ সাশ্রয় হয়। নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বর্তমানে ৭২২.৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। তবে সরকারের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ১৭ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে উৎপাদন করা।

ভার্চুয়াল এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মারসি মিয়াং টেম্বন বলেন, বাংলাদেশ তার উদ্ভাবনীমূলক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য সুপরিচিত। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত সোলার হোম সিস্টেমের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার অফগ্রিড এলাকায় সফলতার সঙ্গে বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছাতে পেরেছে। দূষণমুক্ত জ্বালানি মানেই পরিবারের ভালো স্বাস্থ্য ও উন্নত জীবন যাপনের সুযোগ। বিশ্বব্যাংকও দুই দশক ধরে এই প্রকল্পে সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে টেম্বন বলেন, এখন অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে নজর দেওয়ার সময় এসেছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইরিনার উপমহাপরিচালক মিজ গৌরি সিং, স্রেডার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, ইডকলের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদ মালিক প্রমুখ।

'লিভিং ইন দ্য লাইট :দ্য সোলার হোম সিস্টেমস স্টোরি' বইটিতে বাংলাদেশে সোলার হোম সিস্টেমের সাফল্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০০৩ সালে ৫০ হাজার পরিবারের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ দেওয়ার পাইলট প্রকল্প আকারে বাংলাদেশে সোলার হোম সিস্টেমের যাত্রা। বর্তমানে এর মাধ্যমে এলাকার ১৬ শতাংশ প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগ করছে। ২০০৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সোলার হোম সিস্টেমের কারণে ৯.৬ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস নিঃসরণ থেকে পরিবেশ নিস্তার পেয়েছে। একই সঙ্গে ৪৪০ কোটি টন কেরোসিন পোড়ার দূষণ থেকে পরিবারগুলো নিরাপদ রাখতে পেরেছে এই প্রকল্প।

মন্তব্য করুন