করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে শনাক্তের সংখ্যা প্রতিদিনই আগের দিনের রেকর্ডকে ভাঙছে বরিশাল বিভাগে। অন্যদিকে আরটি পিসিআর ল্যাব সংকটের কারণে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় প্রতিদিন নমুনা সংগ্রহ হচ্ছে পাঁচ শতাধিক। মাত্র দুটি পিসিআর ল্যাব পারছে না প্রতিদিন এত নমুনা পরীক্ষা করে ফল দিতে। এমন প্রেক্ষাপটে সংগৃহীত নমুনা পাঠানো হচ্ছে ঢাকা ও ভোলায়। এতে শুধু স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নন, রোগীদেরও ভোগান্তি হচ্ছে।\হএকটি সূত্র জানিয়েছে, মাসখানেক আগে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে (শেবাচিম) আরও একটি পিসিআর মেশিন বরাদ্দের প্রস্তাব দেয়। তবে শেবাচিম কর্তৃপক্ষ জনবলসহ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সেটি আর নেয়নি। পরে এ ল্যাব নারায়ণগঞ্জে পাঠানো হয়।

এ প্রসঙ্গে শেবাচিমের অধ্যক্ষ ডা. মনিরুজ্জামান শাহীন বলেন, বরিশালের জন্য আরেকটি পিসিআর মেশিন কাগজে কলমে মিলেছিল। তবে সেটি এখানে পৌঁছায়নি। নতুন পিসিআর ল্যাব স্থাপনে প্রয়োজনীয় এক্সেসরিজের (ফ্রিজ, ল্যাবের নানা সরঞ্জাম) ব্যবস্থা করা হয়নি। নেই প্রয়োজনীয় জনবলও।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিভাগের ছয়টি জেলার মধ্যে বরিশাল নগরীর শেবাচিম এবং ভোলা সদর হাসপাতালে একটি করে আরটি পিসিআর ল্যাব রয়েছে। এগুলোর প্রতিটির নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা হচ্ছে ১৮৮টি। সে হিসাবে দুটি পিসিআর ল্যাবে প্রতিদিন ৩৭৬টি নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। তবে ভোলায় নমুনা সংগ্রহ কম হওয়ায় সেখানে সংকট হচ্ছে না। কিন্তু বরিশালসহ বিভাগের অপর চার জেলা পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, বরগুনা ও পিরোজপুরের সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার জন্য আসছে বরিশাল শেবাচিমে স্থাপিত আরটি পিসিআর ল্যাবে।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস বলেন, শেবাচিমের\হপিসিআর ল্যাবে প্রতিদিন ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব। অবশিষ্ট নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে ঢাকা ও ভোলায়।\হভোলা জেলা সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ রেজাউল করীম বলেন, তার জেলায় প্রতিদিন নমুনা সংগ্রহ করা হয় ৭০-৮০টি। এ ছাড়া বরিশাল থেকে পাঠানো নমুনারও পরীক্ষা করেন তারা।\হবিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানাচ্ছে, দু-তিন দিনের নমুনা একত্রে তারা ঢাকা ও ভোলায় বিশেষ ব্যবস্থায় পাঠান। এগুলোর রিপোর্ট পেতে এক সপ্তাহের বেশি সময় লেগে যায়। গত বুধবার বরিশাল থেকে ৫০০ নমুনা ঢাকায় ও ১০৪টি নমুনা ভোলায় পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত ৩ এপ্রিল ঢাকায় পাঠানো নমুনার রিপোর্ট পাওয়া গেছে বুধবার। এদিকে, বিশেষ ব্যবস্থায় ঢাকা ও ভোলায় নমুনা পাঠাতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস বলেন, বরিশালের জন্য আরেকটি পিসিআর মেশিন বরাদ্দ হয়েছে। সেটিও আসবে। বরাদ্দ মেশিন শেবাচিম কর্তৃপক্ষ নিতে চাইছে না, এমন বিষয় জানা নেই বলে দাবি করেন এই বিভাগীয় শীর্ষ কর্মকর্তা।

ডা. বাসুদেব কুমার দাস বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে ২৪৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যা চলতি দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এদিকে শেবাচিম হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বৃহস্পতিবার আইসোলেশন ও করোনা ওয়ার্ডে মোট ১২৬\হরোগী ভর্তি আছেন। আইসিইউতে ১২টি শয্যাতেই রোগী আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন\হওয়ার্ডে দু'জন ও করোনা ওয়ার্ডে একজনের\হমৃত্যু হয়েছে। করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় শেবাচিম হাসপাতালে নতুন রোগীর জায়গা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

মন্তব্য করুন