সরকারের 'ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন' এবং হেফাজতে ইসলামসহ সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে বাম-প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাম গণতান্ত্রিক জোট নেতারা। তারা বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তাণ্ডবের জন্য প্রধানত হেফাজতে ইসলাম দায়ী। কিন্তু এই তাণ্ডবের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সিভিল প্রশাসনের নিষ্ফ্ক্রিয়তার জবাব সরকারকেই দিতে হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তাণ্ডব ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার দায় সরকারও এড়াতে পারবে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সংবাদ সম্মেলনে নেতারা এসব কথা বলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনার পর বাম জোটের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা ও করণীয় দাবি তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাম জোটের সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ। উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, পলিটব্যুরোর সদস্য আকবর খান, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ আল কাফি রতন, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল আলী, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা মানস নন্দী, ইউসিবিএলের কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা বাচ্চু ভূঁঁইয়া, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

নেতারা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের তাণ্ডব একাত্তরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বর্বরতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। কিন্তু হেফাজতের এই তাণ্ডব বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কি সরকারকে কোনো আগাম সংবাদ দেয়নি? আগের দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরও কেন এই তাণ্ডব?\হবাম জোটের ছয় দফা :সংবাদ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৬-২৮ মার্চ হেফাজতের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। এ সময় বাম গণতান্ত্রিক জোটের পক্ষে ছয় দফা দাবি তুলে ধরে এগুলো বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।\হবাম জোটের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনায় জড়িত ও উস্কানিদাতাদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া; আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সিভিল প্রশাসনের নিষ্ফ্ক্রিয়তা ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য জেলা প্রশাসক, এসপিসহ সংশ্নিষ্টদের অপসারণ; তদন্তের মাধ্যমে এই নিষ্ফ্ক্রিয়তার কারণ উদ্ঘাটন ও সঠিক বিচার; ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়া; রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গন, মন্দির, সাংস্কৃতিক ক্লাবসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ক্ষতিগ্রস্ত বেসরকারি স্থাপনার জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

মন্তব্য করুন