বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিজের দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে চাপ দিতে উন্নয়নশীল আটটি দেশের জোট ডি-৮ নেতাদের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বৃহস্পতিবার দশম ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। সম্মেলনের শুরুতেই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ডি-৮ চেয়ার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করেন। বাংলাদেশ আগামী দুই বছরের জন্য এ দায়িত্ব পেল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। এ সম্মেলনের আয়োজক বাংলাদেশ। শীর্ষ সম্মেলনে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন তুরস্ক, মিসর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, নাইজেরিয়া ও পাকিস্তানের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা। এ বছর শীর্ষ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য 'পরিবর্তনশীল বিশ্বে অংশীদারিত্ব :যুবশক্তি ও প্রযুক্তির প্রস্তুতি'।

শীর্ষ সম্মেলন শেষে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানান, এবারের সম্মেলনে ডি-৮ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করাসহ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং পর্যটন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি-৮ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ফোরামের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

সম্মেলনে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মানবিক বিবেচনা বোধ থেকে বাংলাদেশ মিয়ানমারের ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। শুরু থেকেই বাংলাদেশ রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের জন্য চেষ্টা করে আসছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিন বছরের বেশি সময় পার হলেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন এখনও শুরু হয়নি। এই সংকট বাংলাদেশের পরিবেশ, সমাজ ও অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংকটের সমাধান না হলে এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে মিয়ানমারের প্রতি চাপ দিতে ডি-৮ভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের প্রতি অনুরোধ করেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে যুবশক্তিকে কাজে লাগানো, তথ্যপ্রযুক্তি সম্ভাবনার পূর্ণ ব্যবহার, প্রয়োজনীয় আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও অবকাঠামোগত কর্মকাঠামো তৈরি, কানেকটিভিটি বাড়ানো, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিতে এবং ব্যবসায়িক উদ্ভাবনে তরুণদের শক্তি ও সম্ভাবনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে যুবকদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা কভিড-১৯ মহামারির মধ্যেও আমাদের অর্থনীতিকে সচল রেখেছে। সরকারি থেকে বেসরকারি পর্যায়েও ব্যবসা উদ্যোগের মাধ্যমে আমাদের (ডি-৮ভুক্ত দেশগুলোর) যুবকদের একত্র হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা যেতে পারে। ডি-৮ বিজনেস ফোরামের সঙ্গে প্রথম ডি-৮ ইয়ুথ সম্মেলন একটি বিরল সুযোগ তৈরি করেছে। প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য ডি-৮ জোটের দেশগুলোর মধ্যে যৌথ সহযোগিতা বাড়ানোর তাগিদ দেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন :শীর্ষ সম্মেলন শেষে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানান, ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়িয়ে এই ফোরামকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে শীর্ষ নেতারা আলোচনা করেছেন। বিশেষ করে ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও বাড়ানো এবং সদস্য দেশগুলোর তরুণদের একত্র করে নতুন সম্ভাবনার পথে যাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ডি-৮ বিজনেস ফোরাম এবং ডি-৮ ইয়ুথকে আরও সক্রিয় করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।

সম্মেলনে ডি-৮ দেশগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই আটটি দেশই উন্নয়নশীল। এই দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বড় সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দেওয়াটাকেই এখন থেকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী দুই বছর এই জোটের চেয়ারের দায়িত্ব নেওয়ায় আমাদের দেশের ভাবমূর্তি বিশ্বে আরও উজ্জ্বল হবে।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন