বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরেও কেউ কেউ এর ঘোষণাপত্রকে অস্বীকার করেছে। এটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। এ ব্যাপারে সরকারকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। সেসঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের পাঠ্যসূচিতেও অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। কারণ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও সংবিধানের প্রতি অকৃত্রিম আনুগত্যই শুধু পারে এ দেশবাসীকে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ করতে।

শনিবার 'স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অস্বীকার রাষ্ট্রদ্রোহিতাতুল্য অপরাধ' শীর্ষক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে বিশিষ্টজন এসব কথা বলেন। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এ ওয়েবিনারের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। প্রধান বক্তা ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের রচয়িতা ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম।

নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে আরও বক্তব্য দেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্টের সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, আরমা দত্ত এমপি, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, শহীদ সন্তান আসিফ মুনীর তন্ময়, সংগঠনের সর্বইউরোপীয় শাখা সভাপতি তরুণ কান্তি চৌধুরী, যুক্তরাজ্য শাখা সভাপতি নুরুদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বাবু ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল।

ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম বলেন, আমাদের সংবিধান ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের সৃষ্টি এক রক্তক্ষয়ী ঐতিহাসিক সংগ্রামের পরিপ্রেক্ষিতে। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী একাত্তরের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকর এবং এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত স্বাধীনতার ঘোষণা দৃঢ়ভাবে অনুমোদন ও সমর্থন করা হয়েছে। এই ঘোষণাপত্রে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর অস্থায়ী সংবিধান ঘোষণা করা হয়, যেখানে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের স্বীকৃতি রয়েছে।

প্রধান অতিথি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী রেজাউল করিম বলেন, ২৬ বছর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ক্ষমতায় ছিল। তারা বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। তারা স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতকে বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার দিয়েছে এবং সংবিধানে বিভিন্ন অনুচ্ছেদ কাটাছেঁড়া করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানুষের চিন্তা-চেতনা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এগুলো সবই রাষ্ট্র্রদ্রোহিতা।

সভাপতির বক্তব্যে শাহরিয়ার কবির বলেন, 'বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেননি' এ কথা বলার অর্থ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অস্বীকার করা, মুক্তিযুদ্ধের বৈধতা অস্বীকার করা এবং ইতিহাস অস্বীকার করা। যারা এ ধরনের রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক অপরাধ করবে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি অর্জনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বঙ্গবন্ধুর পূর্ণ নির্দেশনায় ৩৪ সদস্যের কমিটি সংবিধান প্রণয়ন করে, যার মূল ভিত্তি ছিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, ১৭ বছর ধরে আমরা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র দিবস পালন করছি, কিন্তু রাষ্ট্র এই দিবস পালন করছে না। বার কাউন্সিলসহ অন্যান্য আইনজীবী সংগঠনগুলো দিবসটি পালন করতে পারে।

মন্তব্য করুন