বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় ব্যথানাশক টারপেন্টাডল জাতীয় ট্যাবলেটকে ইয়াবার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছে মাদকসেবীরা। খোলা বাজারে এসব ট্যাবলেট বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও বিভিন্ন ফার্মেসিতে তা বিক্রি হচ্ছে। মাত্র তিন টাকা মূল্যের একটি ট্যাবলেট অন্তত ১০০ টাকায় কিনে নিচ্ছে মাদকসেবীরা। সম্প্রতি র‌্যাব সদস্যরা বগুড়ার শেরপুরে পৌর শহরের একটি ফার্মেসি থেকে বিপুল পরিমাণ টাপেন্টা জব্দের পর এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বগুড়ার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকার ফার্মেসিতে গোপনে এসব ট্যাবলেট মাদক হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময় তা জব্দও করা হয়েছে।

জানা গেছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের কারণে প্রচলিত মাদক মিলছে না। মিললেও দাম বেশি। এ পরিস্থিতিতে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীরা ভিন্ন মাদকের সন্ধানে রয়েছে। সেই সুযোগে কিছু ওষুধ কোম্পানি এসব ট্যাবলেট উৎপাদন করে গোপনে ফার্মেসিগুলোতে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

শুক্রবার র‌্যাব-১২-এর একটি দল শেরপুর পৌরশহরের হাসপাতাল রোডের তানিয়া ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে এক হাজার ২৬ পিস টাপেন্টা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। এ সময় ফার্মেসির মালিক আব্দুল করিম ও একটি ওষুধ কোম্পানির বিপণন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকেও আটক করা হয়। শেরপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, ওই দু'জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শেরপুর উপজেলায় পৌরশহরসহ বিন্নি অলিগলিতে পাঁচ শতাধিক ওষুধের দোকান রয়েছে। বেশিরভাগ দোকানেই অবাধে বিক্রি হচ্ছে এসব ব্যথানাশক ট্যাবলেট, যা আদতে মাদক হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। দিনের চেয়ে রাতের বেলায় এসব ট্যাবলেট বিক্রি অনেক বেশি হয়।

শেরপুর উপজেলার সাধুবাড়ী পাকারমাথা এলাকার একটি ফার্মেসিতে এ ধরনের ট্যাবলেট কিনতে আসা বাদশা মিয়াসহ একাধিক মাদকসেবী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর তৎপরতায় বাজারে ইয়াবা পাওয়া যাচ্ছে না। পেলেও দাম চড়া। তাই ইয়াবার বিকল্প হিসেবে এগুলো সেবন করছে তারা। তাদের দাবি, এসব ট্যাবলেটেও ইয়াবার মতো নেশা হয়।

শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত আলী শেখ বলেন, ওষুধের ফার্মেসিতে নিষিদ্ধ এসব ট্যাবলেট বিক্রি করা হলে অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল চন্দ্র সাহা সমকালকে বলেন, ব্যথানাশক এ ধরনের ট্যাবলেটে ইয়াবার একেবারেই সামান্য পরিমাণ উপাদান রয়েছে। মাদকসেবীরা চাহিদামতো ইয়াবা না পেয়ে এটা বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। তবে গত বছর টেপান্ডল, সেন্ট্রাডলসহ এই জাতীয় ট্যাবলেটকে মাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এটি এখন দেশে 'খ' শ্রেণির মাদক। এসব ট্যাবলেট উৎপাদন, বিপণন এবং ফার্মেসিতে বিক্রি অবৈধ।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ঢাকা মেট্রো-উত্তর) সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান সমকালকে বলেন, দেশে এটি নিষিদ্ধ থাকলেও ভারতে এসব ট্যাবলেট বৈধ। এজন্য তা সীমান্ত এলাকায় বেশি মিলছে। কয়েক মাস আগে ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে এ ধরনের ট্যাবলেটসহ এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল।

মাদকসেবীদের চিকিৎসকরা বলছেন, টাপেন্টা-লোপেন্টা ও সেন্ট্রাডল শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এগুলো অধিক পরিমাণে সেবন করলে কিডনি-লিভার নষ্ট, ব্রেন স্টোক ও হার্ট অ্যাটাকও হতে পারে।

মন্তব্য করুন