ফুটপাতে দোকানপাট পুরোপুরি বন্ধ। লকডাউনের এই সময় কিছু করতে না পারায় রাজধানীর হকাররা সবাই একরকম ঘরবন্দি। তাদের কেউ কেউ অতিকষ্টে জমানো সামান্য পুঁজি ভেঙে খাচ্ছেন। আবার কেউ এলাকার মুদি দোকান থেকে বাকিতে চাল, ডাল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে খাচ্ছেন।

গুলিস্তানের হকার আবুল কালাম জুয়েল বলেন, রমজান চলছে, সামনে ঈদ, লকডাউন শেষ হলে দোকান খুলে দিলে কিছু বেচাকেনা করে চলতে পারব- এই আশায় আছি। তিনি বলেন, মৃত্যু যেভাবে বাড়ছে তাতে আমরা হতাশা ও আতঙ্কে আছি। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে সংকট আরও বাড়বে। তাই সামনের দিনে কীভাবে বাঁচব সেই চিন্তায় আছি।

বাংলাদেশ হকার সংগ্রাম পরিষদের নেতা আবুল কালাম জুয়েল বলেন, হকারদের বাঁচিয়ে রাখা সরকারের দায়িত্ব। হকাররা কারও কাছে হাত পাততে চায় না। তারা কাজ করে খেতে অভ্যস্ত। ফুটপাতের দোকানপাট বন্ধ থাকায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। কারও পকেটে টাকা নেই। তাদের মধ্যে যাদের পকেটে কিছু টাকা আছে তারা সেগুলো ভেঙে খাচ্ছে। সিংহভাগ হকার ধারদেনা করে, মহল্লার দোকান থেকে বাকিতে চাল, ডাল কিনে খাচ্ছে।

বাংলাদেশ হকার সংগ্রাম পরিষদ সূত্র জানায়, তারা সাহায্য চেয়ে গত বছরের লকডাউনেও জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছিল। দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার ৪ হাজার ৬০ জন এবং উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার চারশ' হাকারের তালিকাও জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই তালিকায় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। এই কারণে গত বছর তারা কোনো সহায়তাও পাননি। শিগগির হকাররা খাদ্য সহায়তার দাবিতে জেলা প্রশাসক ও দুই মেয়রের কাছে আবদন করবে। গত বছরের লকডাউনেও খাদ্য সহায়তা চাওয়া হয়েছিল- এই বিষয়টি মনে করিয়ে দেওয়া হবে।

ঢাকা শহরে স্থায়ীভাবে দোকান করা হকারের সংখ্যা দুই লাখের বেশি। নিয়মিত আসা-যাওয়া করে আরও এক লাখ। আর মৌসুমি, ভাসমানসহ ঢাকা মহানগরে প্রায় পাঁচ লাখ হকার রয়েছে। সারাদেশে হকারের সংখ্যা ১০-১৫ লাখ। যারা ঢাকার ফুটপাতে ব্যবসা করেন তাদের কেউ নদীভাঙা, কেউ সর্বস্ব হারিয়ে এখানে এসেছেন। তারা বিভিন্ন বহুমুখী সমিতি বা প্রতিষ্ঠান থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করছেন। করোনাকালের এই সংকট মোকাবিলায় সরকারি সহায়তা না পেলে তাদের বেঁচে থাকা একরকম অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাছাড়া সরকার সহজশর্তে হকারদের ঋণ দিলে লকডাউন-পরবর্তী তারা ব্যবসা চালিয়ে নিতে পারবে।

হকাররা জানান, তারা কোনো না কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অবৈধভাবে চাঁদা দিয়ে ফুটপাতে ব্যবসা করছেন। এই টাকা সরকারের কোষাগারে জমা হয় না। এ নিয়ে হকারাও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকে। চাঁদার ওই টাকা তারা রাজস্ব হিসাবে সরকারকে দিতে চান। সিটি করপোরেশন দুটি এই টাকা যে প্রক্রিয়ায় নিতে চায় হকাররা সেভাবে প্রদান করবেন। এ নিয়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে।

মন্তব্য করুন