এই মহামারি কালেও থেমে নেই প্রতারণা। অভিনব কৌশলে বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তা পরিচয়ে এক দম্পতি প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিলেন। দুদকের বার্ষিক ম্যাগাজিনে বিজ্ঞাপনের কথা বলে বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে তারা বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযুক্ত প্রতারক নজরুল ইসলাম নাইম ও তার স্ত্রী আশরাফি সিদ্দিকা জুথি অন্তত ছয় বছর ধরে এভাবে নানাজনকে ঠকিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রতারণার শিকার একাধিক ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই চক্রে আরও কেউ রয়েছে কিনা, তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল তাদের এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

জানা গেছে, এই দম্পতির প্রতারণার শিকার প্রিমিটেক গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক এম রহমান আপন গত বৃহস্পতিবার চকবাজার থানায় একটি মামলা করেন। এজাহারে তিনি বলেন, গত ১৮ মার্চ তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে ফোন করে নিজেকে দুদকের সহকারী পরিচালক হিসেবে পরিচয় দেন নজরুল। এরপর তিনি দুদকের বার্ষিক ম্যাগাজিনে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য একটি ই-মেইল তাকে পাঠান। তিনি তাকে দুদক কর্মকর্তা হিসেবে বিশ্বাস করে বিজ্ঞাপন বাবদ ২০ হাজার টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন। এরপর আরও ২০ হাজার টাকা পাঠান তিনি। রহমান আরও বলেন, ম্যাগাজিন প্রকাশের কথা ছিল গত ২৬ মার্চ। পরদিন নজরুলের মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে তা বন্ধ পান। এরপর বুঝতে পারেন যে, প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন তিনি।

গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও অন্যান্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্নিষ্টরা জানান, করোনাকালে ১২-১৫টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিজ্ঞাপন বাবদ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন নজরুল। ২০১৭ সালেও একই কৌশলে দেশের একটি খ্যাতনামা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাজ থেকে ৮০ হাজার নেন তিনি। ওই বছরই কোম্পানির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। সেই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বেশ কয়েক মাস কারাগারেও ছিলেন তিনি।

গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ইসলামী মাল্টিমিডিয়া নামে তার একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থা রয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। বর্তমানে তিনি বসুন্ধরা এলাকা সংলগ্ন সোলমাইরটেকে বসবাস করেন।

পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, এরই মধ্যে জাহাঙ্গীরের ই-মেইল আদান-প্রদান ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের লেনদেন পরীক্ষা করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া সংক্রান্ত অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। ডিবির গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের ডিসি মশিউর রহমান সমকালকে বলেন, নজরুল বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করতেন। তার স্ত্রী স্বামীকে বড় কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে যোগাযোগ করতেন। প্রতারণার মাধ্যমে হাতানো কিছু টাকা জুথির ব্যাংক হিসাবেও জমা হয়।

মন্তব্য করুন