করোনাভাইরাসের এই মহামারির সময়েও বাংলাদেশে অবস্থান করছেন কয়েক হাজার বিদেশি বিনিয়োগকারী। আছেন বিভিন্ন দেশের কর্মীরাও। তবে টিকা নিয়ে তারা রয়েছেন অনিশ্চয়তায়। বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকদের জন্য টিকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু অন্য বিদেশিদের বিষয়ে এখনও কোনো নির্দেশনা জারি হয়নি। এতে বিপাকে পড়েছেন তারা।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (বিডা) সংশ্নিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলো বলছে, কোনো বিদেশি বিনিয়োগকারী টিকা না পেয়ে এ দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে দুর্ঘটনা ঘটলে বিশ্বের কাছে নেতিবাচক বার্তা যাবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এ দেশে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবেন।

এ ছাড়া যেসব দেশের নাগরিক বাংলাদেশে অবস্থান করছেন সেসব দেশ থেকেও সরকারের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

দেশে অবস্থানরত প্রায় ১৫ হাজার বিদেশি বিনিয়োগকারী ও কর্মীকে টিকা দেওয়ার জন্য গত মার্চে সরকারের কাছে সুপারিশ করে বিডা। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষসহ (বেজা) আরও কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাও একই অনুরোধ জানায়। এ নিয়ে বৈঠকও হয়েছে। তাতে বিদেশিদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে সংশ্নিষ্টরা সম্মত হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মার্চের শুরুতে বেজা ও বিডা বিদেশিদের টিকা দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আলাদা করে চিঠি দেয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় এখন দেশের নাগরিকদের টিকা দেওয়া হবে। টিকা পাওয়ার ওপর বিদেশিদের দেওয়া নির্ভর করবে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্য, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেজা, বিডা, বেপজা ও হাইটেকপার্ক কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে এ বিষয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের টিকা দিতে সবাই সম্মতি দেন।

এরই মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও কর্মীদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে আবারও সুপারিশ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বিডা। বেজা থেকেও আবার চিঠি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, বিদেশিদের টিকা দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সম্মিলিত বৈঠকে টিকা দেওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে। কারণ বিদেশিদের টিকা দিলে দেশের ভাবমূর্তি বিদেশে উজ্জ্বল হতো। এতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখত। এ বিষয়টি বিবেচনার জন্য আবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সমকালকে বলেন, বিদেশি নাগরিকদের টিকা দেওয়ার বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করে। সেখান থেকে যে তালিকা দেওয়া হয়েছে সে অনুযায়ী টিকা দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কূটনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের যে তালিকা এসেছে তাদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয় থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও কর্মীদের তালিকা দিলে তাদেরও টিকা দেওয়া হবে।

বেজা ও বিডার কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ছয় শতাধিক বিদেশি নাগরিক কাজ করেন। বিডা থেকে সারাদেশে বৈধভাবে ১০ হাজারের মতো বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া বেপজা ও হাইটেক পার্ক মিলিয়ে ১৫ হাজার বিদেশি নাগরিককে টিকা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

বেজার এক কর্মকর্তা জানান, বিদেশিরা এ দেশের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে কাজ করছেন। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের উদ্যোক্তারা এ দেশে বিনিয়োগে আসেন। এই বিদেশিদের টিকা দিলে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সে জন্য এই বিদেশি নাগরিকের টিকার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন