উপবৃত্তির সঙ্গে ছোট ছোট খুশি আর আনন্দও যেন পৌঁছে গেছে সারাদেশের কোটি পরিবারের কাছে। এরই মধ্যে এক কোটি মায়ের মোবাইল ফোনে সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষার উপবৃত্তির টাকা স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দিয়েছে ডাক বিভাগের ডিজিটাল লেনদেন সেবা 'নগদ'। বাড়ির পাশে 'নগদ' উদ্যোক্তা থাকায় সহজে, প্রয়োজন অনুসারে ক্যাশ-আউট করে নিতে পারছেন উপকারভোগীরা।\হএই দফায় 'নগদ' বিতরণ করেছে আগে থেকেই জমে থাকা ২০২০ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের উপবৃত্তি। সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের আগেই আরও দুটি প্রান্তিকের উপবৃত্তিসহ ২০২১ সালের শিক্ষা উপকরণ কেনার ভাতাও পেয়ে যাবেন শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা। ফলে শিক্ষার্থীদের ঈদের আনন্দ কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পাবে।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফকিরহাটের গৃহিণী মনিকা দেবী তার সন্তানের উপবৃত্তির টাকা পেয়েছেন 'নগদ'-এ। তিনি বললেন, ভাবতে পারিনি যে, এত সহজে আমার মোবাইলে এই টাকা চলে আসবে। এই সময়ে টাকাটা খুব কাজে এসেছে। উপবৃত্তির টাকা আনতে আর শহরে যেতে হবে না, নগদ তো বাড়ির পাশেই আছে, প্রয়োজন মতো তুলে নিতে পেরেছি।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নাসরিন পারভিন একইভাবে 'নগদ' অ্যাকাউন্টে পেয়েছেন তার মেয়ের উপবৃত্তির টাকা। ঘরের পাশের 'নগদ' উদ্যোক্তার কাছ থেকে টাকাটা তুলেও নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নাসরিন বলেন, 'খুবই ভালো ব্যবস্থা করেছেন আমাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রী। ভবিষ্যতে সবাই যেন এভাবে টাকাটা পায়।'

সিলেটের আম্বরখানা কলোনি সরকারি প্রাথমিক\হবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গণেশ পাল দীপু বেশ কয়েক বছর ধরেই সরকারের উপবৃত্তি নিয়ে কাজ করছেন। তার বিবেচনায় 'নগদ' যে প্রক্রিয়ায় একটি জাতীয় ডাটাবেজ তৈরি করে মায়েদের মোবাইলে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে, সেটি যুগান্তকারী ঘটনা।\হজানা যায়, প্রায় এক বছর উপবৃত্তি বিতরণ বন্ধ থাকার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় গত বছরের ডিসেম্বরে 'নগদ'-এর সঙ্গে চুক্তি করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। 'নগদ'-এর মাধ্যমে উপবৃত্তি বিতরণের ফলে একদিকে যেমন স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও ভূতুড়ে সুবিধাভোগী বাদ পড়েছে; অন্যদিকে উপবৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণে সরকারের খরচ এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। 'নগদ' উপবৃত্তির টাকা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই সকল শিক্ষার্থীর নাম, জন্মনিবন্ধন সনদসহ শিক্ষার্থীর মা অথবা অন্য কোনো অভিভাবকের মোবাইল নম্বরের সঙ্গে মিলিয়ে একটি ডাটাবেজ তৈরি করেছে। ফলে তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ভুয়া সুবিধাভোগীর নাম। নিশ্চিত হয়েছে স্বচ্ছতা। জাতীয় রাজস্বের অপচয়ও রোধ হয়েছে।

এর আগে গত কয়েক বছর ধরে শিওর ক্যাশ নামে একটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে উপবৃত্তির ভাতা বিতরণ করত সরকার। কিন্তু নানান অনিয়ম ও বিতর্কের পর সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে দেশের ডিজিটাল লেনদেনে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা 'নগদ'-কে এই দায়িত্ব দেয় সরকার।

এর আগে প্রতি হাজার টাকার উপবৃত্তি বিতরণ করতে সরকারের কাছ থেকে সাড়ে ২১ টাকা করে সার্ভিস চার্জ এবং ক্যাশ-আউট চার্জ নিত শিওর ক্যাশ। কিন্তু সেখানে 'নগদ' সব মিলে সরকারের কাছ থেকে নিচ্ছে হাজারে মাত্র সাত টাকা। সুবিধাভোগী মূল টাকার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাশ-আউটের খরচও পেয়ে যাচ্ছেন। ফলে গ্রাহককে বাড়তি কোনো খরচ করতে হচ্ছে না। সরকারের অন্তত অর্ধশত কোটি টাকার সাশ্রয় হয়েছে।

উপবৃত্তি ব্যবস্থা চালুর পর এতদিন সহজ-সরল সুবিধাভোগীর কাছ থেকে কিছু কুচক্রী মহল নানা অপকৌশলে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে প্রতিটি সুবিধাভোগীর মোবাইলে সচেতনতার বার্তা দিয়ে কল করছে 'নগদ'। এসএমএস পাঠালে অনেক ক্ষেত্রে সুবিধাভোগী সেটি না-ও পড়তে পারেন। সে কারণে আইভিআর কলের মাধ্যমে তাদের জানানো হচ্ছে যে, কোনো অবস্থাতেই 'নগদ' অ্যাকাউন্টের পিন, ওটিপি বা পাসওয়ার্ড কাউকে দেওয়া যাবে না। আইভিআর কলে একই সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে, 'নগদ'-এর পক্ষ থেকে কখনোই গ্রাহকের কাছে পিন, ওটিপি বা পাসওয়ার্ড জানতে চাওয়া হয় না।

উপবৃত্তি বিতরণ বিষয়ে 'নগদ'-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক বলেন, সময়োচিত সিদ্ধান্তের কারণেই লকডাউনের এই সময়েও প্রান্তিক মানুষের হাতে সরকারের আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ভাবতেই ভালো লাগছে যে, আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়া নাগরিক তৈরির প্রক্রিয়ায় 'নগদ' সামান্য হলেও ভূমিকা রাখতে পারছে। ছোট বাচ্চাদের পড়ালেখার খরচ 'নগদ'-এর মাধ্যমে কোটি পরিবারের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। এটি 'নগদ' পরিবারের কাছে খুবই আনন্দের একটি ছবি।\হতিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি বিতরণের দায়িত্ব পাওয়াটা 'নগদে'র জন্য অত্যন্ত সম্মানের। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানাতে এবং সেবার মাধ্যমে সকলের মন জয় করতে নগদের সর্বস্তরের কর্মীরা রাতদিন কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য করুন