ময়মনসিংহের গৌরীপুরের শাহীনুর ইসলাম খান তার ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। ছয় দিন পর স্বজনরা তার লাশ পায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ মর্গে। সিসিটিভি ফুটেজ ঘেঁটে দেখা যায়, এক নারী ও এক যুবক হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন শাহীনুরকে। পরে তাদের আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। রহস্য উদ্ঘাটনে ওই নারী ও যুবকের সন্ধানে নেমেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার দিনভর পুলিশ কন্ট্রোলরুম থেকে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দু'জনকে শনাক্তের চেষ্টা চলে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১২ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৪টায় ভর্তি করা হয় শাহীনুরকে। একটি ইজিবাইকে করে হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগ পর্যন্ত এক নারী ও এক যুবক সঙ্গে ছিলেন। ভর্তির সময় ভুল তথ্য দেওয়া হয় হাসপাতালে। শাহীনুরের নাম দেওয়া হয় সালাম। পিতা লেখা হয় আবু তাহের। কিশোরগঞ্জের কান্দাপাড়ায় গ্রাম উল্লেখ করা হয়। ভর্তির পর যুবক সটকে পড়লেও হুইলচেয়ারে বসিয়ে হাসপাতালের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে নেওয়া পর্যন্ত সঙ্গেই ছিলেন ওই নারী। এরপরে তাকে আর পাওয়া যায়নি। ১৩ এপ্রিল সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় শাহীনুরের। নারী ও যুবকের মুখে মাস্ক পরা থাকায় তাদের শনাক্তও করা যাচ্ছে না।

নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি তার ভাইয়ের ভিটের দেড় শতক জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল এক ব্যক্তির সঙ্গে। স্থানীয় জমির দালাল সুরুজ আলী টাকার বিনিময়ে জমি ছাড়তে বলছিলেন। ঘর ভেঙে জমি খালি করে দেওয়ার কথা বলায় দু'জনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ নিয়ে ৬ মাস আগে গৌরীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন তার ভাই।\হনিহতের স্ত্রী পারভীন আক্তার বলেন, কারা, কী জন্য তার স্বামীকে হত্যা করেছে বুঝতে পারছি না। ইজিবাইকটিও পাচ্ছি না। তার স্বামীকে যে নারী ও যুবক হাসপাতালে নিয়ে গেছে তাদেরও চিনতে পারছি না। আমি দ্রুত স্বামী হত্যার রহস্য উন্মোচন ও জড়িতদের বিচার চাই।

ময়মনসিংহ গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মোহাম্মদ শাহ কামাল আকন্দ বলেন, ইজিবাইক ছিনতাই সংক্রান্ত ঘটনা হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হতো না। নারী ও যুবককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তাদের ধরতে পারলে রহস্য উন্মোচন হবে। এছাড়া আরও কয়েকটি বিষয় মাথায় রেখে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে তারা কাজ করছেন।

মন্তব্য করুন