'আমরা বস্তিবাসী করোনায় মারা যাব না, আমরা মরব না খেয়ে। এভাবে চললে রাস্তায় নামা ছাড়া আর উপায় দেখছি না।' করোনাকালে কোনো সহায়তা না পাওয়া শাহিনা আক্তার গতকাল মঙ্গলবার এভাবেই বলছিলেন ক্ষোভ ও হতাশার কথা। তিনি নগরীর কাটাবিল এলাকার গদার মায়ের কলোনির (বস্তি) ভাড়াটিয়া ইকবাল হোসেনের স্ত্রী। শাহিনার মতোই এমন ক্ষোভ ও হতাশা দেখা গেছে অন্য বস্তির বাসিন্দাদের মধ্যেও।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে কঠোর লকডাউনের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের ১০টি বস্তির বাসিন্দা নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। পরিবারের সদস্যদের জন্য এক বেলার খাবার জোগাড় করাই অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

গতকাল ঘনবসতিপূর্ণ কয়েকটি বস্তিতে গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর করোনার শুরুতে তাদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হলেও এ বছর কোনো সহায়তা পাননি। নগরীর ফৌজদারী মোড়, কাটাবিল, মুরাদপুর, বিষুষ্ণপুর, চকবাজার, সাহাপাড়া, বজ্রপুর, শাসনগাছা ও ঠাকুরপাড়া এলাকার ১০-১২টি বস্তি ছাড়াও নগরীর নিম্ন আয়ের লোকজন প্রচণ্ড খাদ্য সংকটে রয়েছেন।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ২০০ গজ উত্তরে নগরীর প্রাচীন মফিজাবাদ কলোনিতে (বস্তি) দুই শতাধিক পরিবারের বাস। এখানকার অধিকাংশ বাসিন্দাই রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা চালক, ফেরিওয়ালাসহ নিম্ন আয়ের পেশায় নিয়োজিত। এ কলোনির ভাড়াটিয়া অটোরিকশা চালক ফারুক জানান, লকডাউনের কারণে তার উপার্জন এখন প্রায় বন্ধ। স্ত্রী ও সন্তানদের মুখে দু'বেলা খাবার তুলে দেওয়ার সাধ্যও তার নেই।\হএকই কথা বললেন কলোনির বাসিন্দা এশিয়া লাইন বাসের চালক রাজা মিয়া ও চা দোকানদার কাউসার। এই কলোনির বাসিন্দা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের শালবন ক্লাস্টারের সভাপতি রহিমা আক্তার পপি জানান, গত বছরের করোনার সময় এ কলোনির জন্য খাদ্য ও অর্থ সহায়তা পাওয়া গেলেও এবার কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি।

গদার মার কলোনিতে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ রিকশা ও ভ্যান অলস পড়ে আছে। কারও ঘর ভাড়া বাকি। কারও ঘরে খাবার নেই। কেউ অসুস্থ, অর্থ সংকটে চিকিৎসা চলছে না। ওই কলোনির মালিক তাহেরা বেগম বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস বিলসহ অনেকেরই ঘর ভাড়া বকেয়া পড়ে যাচ্ছে। ওরা খাবারই যখন পাচ্ছে না, ভাড়া দেবে কীভাবে?

নগরীর বস্তি উন্নয়নে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। এর কমিউনিটি অর্গানাইজার শামসুন নাহার বলেন, নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ছোট-বড় অন্তত ১৪-১৫টি বস্তি রয়েছে। এ\হছাড়া নগরীর বিভিন্ন স্থানে অতিদরিদ্র\হঅনেক মানুষের বসবাস। করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তারা।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, বস্তিবাসীসহ নগরীর নিম্ন আয়ের লোকদের বিষয়ে আমরা সরকারিভাবে দ্রুত কিছু খাদ্য সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু জানান, নগরীর ৩৬টি ওয়ার্ডের দুস্থ ও নিম্ন আয়ের অসহায় মানুষের জন্য এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ দিলেও ৩৬ লাখ টাকা দরকার। এ ছাড়া নগর ভবনের ৫০০ দিনমজুরের জন্য জনপ্রতি এক হাজার টাকা দিলেও দরকার পাঁচ লাখ টাকা। কিন্তু এ পর্যন্ত জেলা প্রশাসন থেক বরাদ্দ পেয়েছি মাত্র পাঁচ লাখ টাকা। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে আরও কিছু অর্থ পেলে সব মিলিয়ে হয়তো গরিবদের জন্য কিছু দিতে পারব।

মন্তব্য করুন