হাসপাতালের সামনে সারি সারি অ্যাম্বুলেন্স। কিছুক্ষণ পর পর আরও অ্যাম্বুলেন্স এসে যুক্ত হচ্ছে সেই সারিতে। আসছেন নুতন নতুন রোগী। আবার লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সও বের হচ্ছে হাসপাতাল থেকে। সকাল থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্সে করে অন্তত তিনটি লাশ নিয়ে যেতে দেখা গেছে।\হরাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন ডিএনসিসি করোনা হাসপাতালের চিত্র এটি। গত রোববার হাসপাতালটি চালু হয়েছে। বলা হচ্ছে এটি দেশের বৃহত্তম করোনা হাসপাতাল। উদ্বোধনের তিন দিনেই তা করোনা রোগীতে ভরে গেছে। জরুরি বিভাগ, সাধারণ ওয়ার্ডের বেড, আইসিইউ, এইচডিইউ- কোনো কিছুই খালি নেই।\হহাসপাতালে দেখা যায়, অধিকাংশই নাজুক অবস্থায় আসছেন হাসপাতালে। কেউ কেউ সিলিন্ডার ভর্তি অক্সিজেন সংযোগ নিয়ে আসছেন। আবার কেউ তড়িঘড়ি করে আসছেন একটু অক্সিজেনের আশায়।\হগতকাল বেলা সাড়ে তিনটার দিকে খন্দকার নামের একজন রোগীকে রামপুরার বেটারলাইফ হাসপাতাল থেকে আনা হয়েছিল লাইফ সাপোর্টের আশায়। কিন্তু শয্যা খালি নেই। জরুরি বিভাগে কিছুক্ষণ অবস্থান করার পরই মৃত্যুবরণ করেন রোগী। মৃত ব্যক্তি কোথায় থাকতেন, তার পুরো নাম কী, কোন ধরনের পেশায় জড়িত ছিলেন- এসব তথ্য জানতে তার এক নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি বলেন, রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হলো না, এখন এসব জেনে কী হবে? বেলা ৪টার দিকে লাশ নিয়ে তারা হাসপাতাল ছাড়লেন।\হকিছু সময় পর হাসপাতাল থেকে বের করা হলো আরেকটি লাশ। এরপর পৌনে পাঁচটার দিকে বের করা হলো আরেকটি লাশ। হাসপাতালের সামনে স্বজনদের আহাজারি থামছে না।\হদেখা গেল, মাহবুব নামের এক তরুণ জরুরি বিভাগের সামনে হুইলচেয়ারে বসে আছেন। চোখ বুজে ক্লান্ত দেহে ঝিমুচ্ছিলেন তিনি। তাকে আনা হয়েছে ঢাকার আগারগাঁওয়ের নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল থেকে। হাসপাতাল বলেছে, রোগী করোনা পজিটিভ। তাই ডিএনসিসি হাসপাতালে ভর্তির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। রোগীর নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল রোগীর ছাড়পত্র সংক্রান্ত একটি কাগজ দেয়নি। ওই কাগজ ছাড়া রোগীকে ভর্তি করছে না ডিএনসিসি হাসপাতাল। কাগজ ও ভর্তি বিড়ম্বনায় তরুণ বয়সী এই রোগীর অবস্থা আরও নাজুক হচ্ছিল। ডিএনসিসি হাসপাতাল সূত্র জানায়, এক হাজার শয্যার লক্ষ্য নিয়ে হাসপাতালটি চালু করা হলেও গতকাল পর্যন্ত ২৬০টি শয্যা চালু হয়েছে। এর মধ্যে আইসিইউ শয্যা ৬০টি, জরুরি ৫০টি, সাধারণ ১৫০টি। আগামী সাত দিনের মধ্যে আরও ২৫০ শয্যা সচল হবে। ২৯ এপ্রিলের মধ্যে এক হাজার শয্যা নিশ্চিত করা হবে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গতকাল বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৮৭ রোগীর টিকিট বিক্রি হয়েছে। গত সোমবার ও গতকাল বিকেল ৪টা পর্যন্ত টিকিট বিক্রি হয়েছে ২৬৫টি।\হহাসপাতালটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছিল, হাসপাতালটিতে ১ হাজার শয্যা রয়েছে, যার ৫০০টিতেই আইসিইউ সমতুল্য সেবা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া কভিড রোগীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ শয্যা আছে ২১২টি, এইচডিইউ শয্যা আছে ২৫০টি, কভিড আইসোলেটেড কক্ষ আছে ৪৩৮টি। জরুরি শয্যা আছে ৫০টি, যার ৩০টি পুরুষ ও ২০টি নারী রোগীর জন্য। পাশাপাশি আরটি-পিসিআর ল্যাব, প্যাথলজি ল্যাব, রেডিও থেরাপি সেন্টার, এক্সরেসহ অন্যান্য সুবিধা রয়েছে।

মন্তব্য করুন