রাজধানীর বাজারে গত দু'দিন প্রতি লিটারে গড়ে পাঁচ টাকা বাড়তি দরে পাম ও সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে। তবে দু'দিনের মাথায় পরিশোধনকারী কোম্পানি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী ঈদ পর্যন্ত ভোজ্যতেলের দাম প্রতি লিটারে তিন টাকা ছাড় দিয়ে বিক্রি করা হবে। গতকাল সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দিয়েছে মিল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পবিত্র রমজান ও করোনা মহামারির এই সময়ে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে ঈদুল ফিতর পর্যন্ত প্রতি লিটারে তিন টাকা ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বাড়লে বা কমলে তাৎক্ষণিকভাবে তা সমন্বয় করার কথা বলেছে সংগঠনটি।

নতুন করে মূল্যছাড় দেওয়ার ঘোষণা অনুযায়ী, এখন প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম হবে ১৪১ টাকা। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১১৯ টাকা ও পাম সুপার তেল ১১০ টাকায় কিনতে পারবেন ভোক্তারা। বর্তমানে বাজারে বর্ধিত মূল্যে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন ১৪৪ টাকা ও খোলা সয়াবিন ১২২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সুপার পাম তেল বিক্রি হচ্ছে লিটারপ্রতি ১১৩ টাকায়। গত ১৯ এপ্রিল মিল মালিকদের সংগঠন চিঠি দিয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনকে নতুন বর্ধিত দর জানিয়েছিল।

এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ১৫ মার্চ ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর বিষয়টি অনুমোদন করে। তখন এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ঠিক করা হয় সর্বোচ্চ ১৩৯ টাকা, যার দাম ছিল ১৩৫ টাকা।

অ্যাসোসিয়েশন জানায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে নিয়মিতভাবে দেশীয় পর্যায়ে ভোজ্যতেলের উৎপাদন, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানি পরিস্থিতি এবং স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের মূল্য অনেক বেড়ে যাওয়ায় অ্যাসোসিয়েশন দাম গড়ে পাঁচ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি গত ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনকে জানায় সংগঠনটি। এরই মধ্যে নতুন দরের তেল বাজারে বিক্রি শুরু হয়ে গেছে।

অ্যাসোসিয়েশন আরও জানায়, ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত ভোজ্যতেলের বাজারমূল্য মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। এর পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি। দেশের বাজারের ভোজ্যতেলের চাহিদার ৯৫ ভাগের বেশি আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়। তাই আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধি স্থানীয় বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

যদিও আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধির তুলনায় স্থানীয় বাজারে দাম কমই বেড়েছে।

মন্তব্য করুন