দেশি কোম্পানি গ্লোব বায়োটেকের টিকা 'বঙ্গভ্যাক্স' শেষ পর্যন্ত উৎপাদন পর্যায়ে যাবে কিনা তা নিয়ে ধোঁয়াটে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের একটি সংশ্নিষ্ট সূত্র সমকালকে জানিয়েছে, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য গ্লোব বায়োটেক যে আবেদন করেছিল, তা অতি সম্প্রতি নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি)।

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে গ্লোব বায়োটেকের হেড অব কোয়ালিটি অ্যান্ড রেগুলেটরি অপারেশনস, ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন সমকালকে জানান, এ তথ্য সঠিক নয়। সর্বশেষ গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএমআরসির চাওয়া সব তথ্যের জবাব গ্লোব বায়োটেক লিখিতভাবে দিয়েছে। এরপর বিএমআরসি গ্লোব বায়োটেককে আর কিছুই জানায়নি। এ ব্যপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিএমআরসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী সমকালকে বলেন, এ মুহূর্তে তার পক্ষে এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে কোনো তথ্য জানানো সম্ভব নয়।

গত বছরের ২ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে দেশি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেকের পক্ষ থেকে কভিড-১৯ টিকা উদ্ভাবনের ঘোষণা দেওয়া হয়। টিকাটির প্রথম নাম দেওয়া হয়েছিল 'ব্যানকভিড'। পরে এর নাম পরির্বতন করে 'বঙ্গভ্যাক্স' রাখা হয়।

এ টিকা উৎপাদন প্রক্রিয়ার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে ড. মহিউদ্দিন জানান, ২০২০ সালেই বঙ্গভ্যাক্সের অ্যানিমাল ট্রায়ালে কার্যকর অ্যান্টিবডি পাওয়া যায়। এরপর ক্লিনিক্যাল রিসার্চ অর্গানাইজেশন লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টিকার ফেইজ-১ ও ফেইজ-২-এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদন চেয়ে গত ১৭ জানুয়ারি বিএমআরসিতে দেওয়া হয়। গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিএমআরসি থেকে প্রায় ১০০টি প্রশ্ন করে তথ্য চাওয়া হয়। গ্লোব বায়োটেকের পক্ষ থেকে প্রতিটি প্রশ্নের লিখিত জবাব দেওয়া হয় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি। এরপর প্রায় তিন মাস পার হলেও বিএমআরসি থেকে আর কিছুই জানানো হয়নি। তিনি আরও জানান, বিএমআরসি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদন দিলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে প্রটোকল জমা দেওয়া হবে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলে মানবদেহে এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হবে। এক্ষেত্রে প্রথমে অল্প কিছু মানুষের ওপর প্রয়োগ করে দেখা হবে টিকা নিরাপদ ও কার্যকর কিনা। এটি কার্যকর ও নিরাপদ প্রমাণিত হলে সেটা মানুষের ওপর ব্যাপক হারে প্রয়োগ করা যাবে। তিনি আরও জানান, এই টিকা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১ মাস এবং মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৬ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে।

তবে স্বাস্থ্য খাত সংশ্নিষ্ট একটি সূত্র জানায়, অতি সম্প্রতি গ্লোব বায়োটেকের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে বিএমআরসি। ফলে এ টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এখন সম্ভব হবে না। আর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল না হলে এটি চূড়ান্ত উৎপাদন পর্যায়েও যেতে পারবে না। তবে বিএমআরসি কেন এ আবেদন নাকচ করেছে সে সম্পর্কে সূত্র সুনির্দিষ্ট কিছু জানাতে পারেনি।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে ড. মহিউদ্দিন বলেন, এ তথ্য একেবারেই সঠিক নয়। কারণ গত ১৭ ফেব্রুয়ারির পর বিএমআরসি থেকে কোনো ধরনের তথ্য বা নির্দেশনা গ্লোব বায়োটেককে জানানো হয়নি।

মন্তব্য করুন