বিয়ের মাত্র ১৬ দিনের মাথায় লাশ হতে হলো স্কুলছাত্রী স্বর্ণা আক্তার মিমকে। যাওয়া হলো না স্বামীর বাড়িতেও। বাবার বাড়ির পুকুরপাড়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় মিলল তার লাশ। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে দেবিদ্বার উপজেলার ধামতী উত্তরপাড়া বস্কর আলীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। দুপুর ১২টায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ এপ্রিল মৃত সামসুল হকের মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী স্বর্ণাকে কোর্টে বিয়ে করেন একই গ্রামের রহিম মাস্টারের ছেলে কামরুল হাসান। ছেলের পরিবার প্রেমের সম্পর্কের এই বিয়ে মেনে না নেওয়ায় স্বর্ণা তার বড় বোনের বাসায় দেবিদ্বারে থাকত। তার মা নাজমা বেগম ঢাকায় আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার কারণে ছোট ভাইকে সঙ্গ দিতে গত শনিবার স্বর্ণা দেবিদ্বার থেকে ধামতী বাবার বাড়িতে আসে। বুধবার রাতে সে ছোট ভাইকে নিয়ে তাদের ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। ভোররাতে সেহরির সময় তার বড় বোন শিল্পি আক্তার স্বর্ণার মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে পাশের ঘরের চাচিকে ফোন করে বিষয়টি বলেন। এ সময় স্বর্ণার চাচা-চাচি তাকে ডাকাডাকি করলে ছোট ভাই নাবিল ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলে দেয়। তখন চাচা-চাচি গিয়ে দেখেন স্বর্ণা ঘরে নেই। পেছনের দরজা খোলা। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ঘরের পেছনে পুকুরপাড়ে আমগাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো স্বর্ণার লাশ ঝুলতে দেখেন।

দেবিদ্বার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারক জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মৃতের স্বামী কামরুল হাসানকে থানায় আনা হয়েছে। তবে কামরুল হাসানের দাবি, রাত ১২টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে তার কথা হয়েছে। ভোররাতে তার মৃত্যুর সংবাদ পাই। আমার স্ত্রী আত্মহত্যা করতে পারে না। হয়তো তাকে কেউ হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে।

দেবিদ্বার থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা না আত্মহত্যা, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই সঠিক কারণ জানা যাবে।

মন্তব্য করুন