'ডিজিটাল বাংলাদেশ' পরিপূর্ণ বাস্তবায়নে মোবাইল টেলিযোগাযোগ খাতে কর নীতি সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছে গ্লোবাল সিস্টেম মোবাইল কমিউনিকেশন অ্যাসোসিয়েশন (জিএসএমএ)। গতকাল বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের মোবাইল টেলিযোগাযোগ খাতে কর কাঠামো নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশের মোবাইল টেলিযোগাযোগ খাতে ৪৪ শতাংশ কর দিতে হয়, যা বিশ্বে তৃতীয় সর্বোচ্চ। উচ্চ করের চাপ কমানো গেলে এ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব বাড়বে বছরে প্রায় ১৭৮ মিলিয়ন ডলার।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের বিদ্যমান কর কাঠামোর কারণে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হলে এই কর কাঠামো পুনর্বিবেচনা করাই যুক্তিসংগত।

তবে পুনর্বিবেচনার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, এ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আদায়েও যেন নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কর কাঠামো নিয়ে আলাপ-আলোচনা হওয়া দরকার। একই সঙ্গে বর্তমান গ্রাহক সেবার মান আশানুরূপ নয়, সেটার উন্নয়নেও মনোযোগ দিতে হবে। তিনি বিদ্যমান বাস্তবতা বিবেচনায় ২০০ টাকার সিমট্যাক্স প্রত্যাহার করা উচিত বলে মত দেন।

সভায় আরও সংযুক্ত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব আফজাল হোসেন, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য প্রদ্যুত কুমার সরকার, অ্যামটব সভাপতি ও রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহতাব উদ্দিন আহমেদ এবং অ্যামটবের সাধারণ সম্পাদক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এসএম ফরহাদ। সভা সঞ্চালনা করেন জিএসএমএ টিমের জুলিয়ান গোরম্যান।

জিএসএমএর প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যমান ২ শতাংশ টার্নওভার ট্যাক্স, ৪৫ শতাংশ করপোরেট ট্যাক্স, ১৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক্ক ও এক শতাংশ সারচার্জসহ ৩৫ শতাংশ কনজিউমার ট্যাক্স এবং ২০০ টাকার সিমট্যাক্স বাংলাদেশে মোবাইল টেলিযোগাযোগ খাতে অগ্রগতি ও ডিজিটাল সেবার অন্তর্ভুক্তির বিস্তৃতি বাধাগ্রস্ত করছে। ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটরগুলো এ পর্যন্ত ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। ফলে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশে সর্বাধিক ৯৫ শতাংশ ফোরজি নেটওয়ার্ক কাভারেজ সম্ভব হয়েছে। কিন্তু দেশের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ এখনও ডিজিটাল প্রযুক্তির সুফল থেকে বঞ্চিত। ডিজিটাল অর্থনীতিতে এই বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীকে অংশগ্রহণ করাতে না পারলে ২০৩১ সাল নাগাদ বাংলাদেশের উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পথে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে।

মন্তব্য করুন