করোনাকালে শ্রমজীবীদের জন্য গণবণ্টন ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। নেতারা বলেছেন, করোনার অভিঘাতে দেশের মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে পারছে না। আয় কমে যাওয়ায় তারা খাদ্য গ্রহণ কমিয়ে দিয়েছেন। সেই সময় চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের দিশেহারা অবস্থা। এ অবস্থা মোকাবিলায় নিত্যপণ্যের বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি গণতদারকি কমিটি করে বাজার মনিটরিং, গণবণ্টন ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা এসব কথা বলেন।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ, বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, বাজার মনিটরিং জোরদার, গণবণ্টন ব্যবস্থা ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু এবং ঈদের আগেই গার্মেন্টসহ সব শ্রমিক-কর্মচারীর বেতন-বোনাস পরিশোধের দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি হামিদুল হক, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা মানস নন্দী, সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা সাদেকুর রহমান শামীম, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা বাচ্চু ভূঁইয়া, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের ঢাকা মহানগর সমন্বয়ক ও বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা খালেকুজ্জামান লিপন। সমাবেশে শেষে বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

ঈদের আগেই শ্রমজীবী মানুষের বকেয়া বেতন-বোনাস দেওয়া নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, ২০ রোজার মধ্যে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দেওয়ার দাবি জানালেও এখনও তা পরিশোধ করা হয়নি। ইতোমধ্যে গার্মেন্ট মালিকরা নতুন করে ছয় হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দাবি করেছেন এবং না হলে বেতন-বোনাস দেওয়া সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন, যা খুবই নিন্দনীয়। মালিকদের এই দুরভিসন্ধিমূলক অপতৎপরতা মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

নাটোরের বনপাড়ায় বাম জোটের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশি হামলা ও নির্যাতনের নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানান নেতারা।

মন্তব্য করুন