ময়মনসিংহের গৌরীপুরে মাসুদুর রহমান শুভ্র হত্যা মামলার বাদী নিহতের ছোট ভাইকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পরদিন আসামি পক্ষের লোকজন বাদী আবিদুর রহমান প্রান্তর গাড়িবহরে হামলা চালায়। এ ঘটনায় পৌর মেয়রকে প্রধান করে শুক্রবার থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ পৌর যুবলীগ সভাপতিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গত বছরের ১৭ অক্টোবর রাতে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় শুভ্রকে। তিনি পৌরসভার মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হতে এলাকায় প্রচারে ছিলেন। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বেও ছিলেন। পূর্বশত্রুতা ও মেয়র প্রার্থী হওয়ায় বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার ভাই প্রান্ত গৌরীপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলামসহ ১৪ জনের নামে ১৯ অক্টোবর থানায় একটি মামলা করেন। ২২ অক্টোবর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান ময়মনসিংহ গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মোহাম্মদ শাহ কামাল আকন্দ। ঘটনার ৬ মাস ১৯ দিনের মাথায় গত বুধবার আদালতে ৪১ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এতে পৌর মেয়র রফিকসহ এজাহারভুক্ত ১৪ জনের সঙ্গে তদন্তে পাওয়া আরও পাঁচজনের নাম সংযুক্ত করা হয়।

আদালতে বুধবার অভিযোগপত্র দেওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে আসামি পক্ষের লোকজন। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হামলা হয় হত্যা মামলার বাদী প্রান্তর ওপর। এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মীকে দেখে বাসায় ফেরার পথে কালিপুর মধ্যমতরফ এলাকায় সশস্ত্র লোকজন গতিরোধ করে প্রান্তর গাড়িবহরের। ওই সময় পিটিয়ে কয়েকজনকে ও একজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। অল্পের জন্য বেঁচে যান প্রান্ত। হামলার খবর পেয়ে গৌরীপুর থানা পুলিশ ও ময়মনসিংহ গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে পৌর যুবলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান মিথুনসহ ৫ জনকে আটক করে। আটক অন্যরা হলেন মো. আনিছ, প্রদীপ বাগচী, শহিদুল ইসলাম শহীদ ও শ্যামল সরকার।

এ ঘটনায় প্রান্ত গতকাল বিকেলে গৌরীপুর থানায় মামলা করেন। এতে পৌর মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলামসহ ২৬ জনের নাম ও অজ্ঞাতনামা আরও ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। পৌর মেয়র রফিকের নির্দেশে ওই হামলা হয়েছে বলে এজাহারে বলা হয়। পুলিশ আটক পৌর যুবলীগ সভাপতি মিথুনসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল আদালতে সোপর্দ করে।

নিহতের চাচা সাদিকুর রহমান সেলিম বলেন, তার এক ভাতিজাকে হত্যার পরও ওরা থেমে নেই। প্রান্ত কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও তাকেও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। হত্যা মামলার সাক্ষীদের অব্যাহত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় তারা পরিবার নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

পৌর মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, তার কিছু কর্মীর সঙ্গে বাদীপক্ষের বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। এতে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। নাটক সাজিয়ে তাকে পুনরায় মামলায় আসামি করা হয়েছে।

গৌরীপুর থানার ওসি খান আবদুল হালিম সিদ্দিকী বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য করুন