ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীসহ আটক অন্য ছাত্রদের ঈদের আগে জামিন ও মুক্তি দাবিতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে চিঠি দিয়েছেন ১৮ বিশিষ্টজন। শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ চিঠির বিষয়বস্তু তুলে ধরা হয়। গণফোরাম সভাপতি ও প্রবীণ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠি গত বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতের রেজিস্ট্রার শাখায় হস্তান্তর করা হয়।

আরও স্বাক্ষর করেছেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, হাফিজ উদ্দিন খান, আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, অধ্যাপক পারভীন হাসান, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, বদিউল আলম মজুমদার, নারী নেত্রী শিরিন হক, লেখক ও নৃবিজ্ঞানী রেহনুমা আহমেদ, অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু এবং জোনায়েদ সাকি।

প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিঠিতে তিন দফা দাবি জানিয়ে বলা হয়, গত দুই মাসে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার সব ছাত্রদের আগামী রোজার ঈদের আগে জামিন পাওয়ার জন্য স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা নিন। রিমান্ডে এবং করোনাকালে তাদের প্রতি কোনো নিপীড়ন হচ্ছে কিনা তদন্ত করার ব্যবস্থা নিন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যার বিরুদ্ধে কটূক্তি বা মানহানি করা হয়েছে বলে বলা হচ্ছে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ সংক্ষুব্ধ হয়ে মামলা করতে পারবেন না- এ ধরনের নির্দেশনা দিন।

সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, 'ছাত্রদের জামিন দেওয়া উচিত। জামিন পাওয়ার অধিকার সবারই আছে। বিশেষ করে ছাত্র সমাজ ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখে এসেছে।' গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জামিন আমাদের মানবিক ও আইনগত অধিকার। আমরা প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। বিচারে দীর্ঘ প্রক্রিয়া সবচেয়ে বড় অত্যাচার। আজ এক মাস হয়ে গেছে আদালতে এখনও মামলা ওঠেনি। এ জায়গায় প্রধান বিচারপতির সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, দণ্ডবিধিসহ বিভিন্ন আইনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক সমাজকল্যাণ সম্পাদক আখতার হোসেনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের অর্ধশতাধিক ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি ও সামনের ঈদ, সর্বোপরি ন্যায়বিচারের স্বার্থে তারা অবিলম্বে জামিন পাওয়ার অধিকারী।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। উপস্থিত ছিলেন লেখন নৃবিজ্ঞানী রেহনুমা আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, মুক্তিযোদ্ধা ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর প্রমুখ।

মন্তব্য করুন