স্বাস্থ্য খাতের ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক সংস্কার চেয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, রাজনীতিবিদ ও উন্নয়ন কর্মীরা। তারা বলেছেন, পুরো স্বাস্থ্য খাতের ব্যবস্থাপনায় সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে। জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসার উন্নয়নে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ এবং ব্যয়ের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। কাজের অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে। এ জন্য সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সংকল্প প্রয়োজন। শনিবার উন্নয়ন সমন্বয় ও বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ আয়োজিত 'স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় :২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবনা' শীর্ষক অনলাইন আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, মোটাদাগে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ কম। বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যে মোট বিনিয়োগের অর্ধেক থাকা উচিত। দরকার স্বাস্থ্যে অগ্রাধিকার ঠিক করা। শুধু স্বাস্থ্যে নয়, সব ক্ষেত্রেই ব্যয়ের অগ্রাধিকার ঠিক করা জরুরি। বিশেষ অতিথি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রহুল হক বলেন, কম বরাদ্দের তুলনায় স্বাস্থ্য খাতের বড় সমস্যা অব্যবস্থাপনা। কেনাকাটা, পদায়নসহ সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, এবারের বাজেট হতে হবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক। চলতি অর্থবছরের বাজেটে খরচ করার জন্য এ খাতে ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ আছে। তবে আগামী বাজেটে সুনির্দিষ্টভাবে টিকার জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব টিকা দিতে হবে। প্রবন্ধে বলা হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের ৭৬ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে। অব্যয়িত থাকছে ২৪ শতাংশ। কমপক্ষে ৮০ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে হবে। মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের ২৫ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায়। এখানে বরাদ্দ ৩৫ শতাংশে নিতে হবে। ওষুধে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে আঞ্চলিক বৈষম্য দূর ও শহরের দরিদ্র মানুষের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশের মানুষের ৭০ শতাংশ গ্রামাঞ্চলে বাস করেন। ফলে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উন্নয়ন করতে হবে। শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, এর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার বিকেন্দ্রীকরণ দরকার। যারা স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না, তাদের সেবার ব্যবস্থা করতে হবে।

সংসদ সদস্য আরোমা দত্ত বলেন, ভারত থেকে ট্রাকের শ্রমিকরা আসছেন। তারা মাস্ক ব্যবহার করছেন না। এটা রেড এলার্ট। পরিবার পরিকল্পনায় বরাদ্দ বাড়াতে হবে। নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানো দরকার। সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এম হাবিবে মিল্লাত বলেন, স্বাস্থ্য খাতে অব্যবস্থাপনা দূর করতে কঠোর হতে হবে। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। গবেষণা বাড়াতে হবে।

শিরীণ আখতার এমপি নিজের নির্বাচনী এলাকার তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিত্র তুলে ধরে অব্যবস্থাপনা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্ন কর্মী, নার্স ও চিকিৎসক নেই। সেখানে বিদ্যুৎ থাকে না। হাসপাতাল এলাকায় বখাটেদের আড্ডা চলে।

জাতীয় অধ্যাপক সাহেলা খাতুন বলেন, স্বাস্থ্য খাতের জন্য যেসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন দরকার। অনিয়ম বন্ধ করা দরকার। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু জেন্ডার বাজেট প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের আহ্বায়ক মোস্তাক চৌধুরী। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দূর করতে রাজনৈতিক উদ্যোগ দরকার।

মন্তব্য করুন