অর্ধেক আসন খালি রেখে দূরপাল্লার বাসসহ সব ধরনের গণপরিবহন চালুর দাবি জানিয়েছে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সংগঠনগুলো। অন্যথায় ঈদের দিন আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেছেন।

শ্রমিক ফেডারেশন, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে গণপরিবহন চালু ছাড়াও নামমাত্র সুদে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ঋণ, পূর্বের ঋণের সুদ মাফ করে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কিস্তি স্থগিত, গাড়ির কাগজ বিনা জরিমানায় হালনাগাদের সুযোগ বাড়ানো এবং শ্রমিকদের জন্য ১০ টাকা কেজিতে চাল বিতরণসহ পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়।

করোনার সংক্রমণ রোধে ৫ এপ্রিল থেকে এক মাস বন্ধ রাখার পর গত বৃহস্পতিবার থেকে শুধু জেলার অভ্যন্তরে ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চলছে। দূরপাল্লার ও আন্তঃজেলা বাস বন্ধ থাকলেও গ্রামমুখী মানুষের ঢল নেমেছে।

পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দাবি, এতে যাত্রীদুর্ভোগ ও করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। যাত্রীরা দূরপাল্লার বাসে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতায়াত করলে করোনা ছড়ানোর ঝুঁকি কম। কিন্তু এখন যেভাবে ভেঙে ভেঙে; ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাসে গাদাগাদি করে যাতায়াত করছে; এতে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেছেন, অন্য সবকিছু খোলা রেখে দূরপাল্লার বাস বন্ধ রাখা অবৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকলেও মানুষ ঘরে বসে নেই। যার প্রয়োজন, সে যেভাবেই হোক গন্তব্যে যাবে। ঈদেও যাবে; ঠেকানো যাবে না। সিএনজি অটোরিকশায় গাদাগাদি করে হলেও যাবে। তার চেয়ে দূরপাল্লার বাস চালু করাই উত্তম। পাঁচ দফা দাবিনামা তুলে ধরে তিনি বলেন, দাবি মানা না হলে মালিক ও শ্রমিকরা ঈদের নামাজ শেষে নিজ এলাকার বাস ও ট্রাক টার্মিনালে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। পরে আরও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

মালিক-শ্রমিকদের দাবিতে জেলার অভ্যন্তরে বাস ও গণপরিবহন চালু হলেও শাজাহান খানের দাবি, তারা সরকারের কাছ থেকে সাড়া পাচ্ছেন না। তিনি বলেছেন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে মালিক-শ্রমিকদের তিন সংগঠনের ছয় নেতা দেখা করতে চেয়েছিলেন। ওবায়দুল কাদের সাক্ষাৎই দেননি। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। পরিবহন নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সব দাবি-দাওয়া জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সব কথা শুনেছেন। কিন্তু এখনও কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মালিক সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রমেশ চন্দ্র ঘোষ ও জেনারেল সেক্রেটারি আবু রায়হান।

মন্তব্য করুন