পুলিশের সামনে গাদাগাদি করে মাইক্রোবাসে করে মানুষ যাচ্ছে ঢাকার বাইরে। রাজধানীর সব বাস টার্মিনালের ভেতর ও আশপাশ থেকে অবাধে মাইক্রো ও প্রাইভেটকার ছাড়া হচ্ছে। তাতে নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই। রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালের একটি মাইক্রোর চালক মো. রানা জানান, তার ১২ সিটের গাড়ি। যাত্রী ওঠাবেন ১১ জন। বগুড়া পর্যন্ত প্রতিজনের ভাড়া নেওয়া হবে দেড় হাজার টাকা করে। গতকাল শনিবার সরেজমিনে রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলো ঘুরে এমন অনেক ঘটনা দেখা গেছে।

গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহসহ ঢাকার বাইরের বিভিন্ন এলাকায় যাত্রী নিয়ে মাইক্রো ও প্রাইভেটকার ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। সামনে ঈদ, লকডাউনে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ। মাইক্রো, প্রাইভেট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা না থাকায় যে যেভাবে পারছেন, বাড়ি যাচ্ছেন। মাস্ক পরা ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের ক্ষেত্রে গাড়িচালক ও যাত্রীদের মধ্যে অনীহা লক্ষ্য করা গেছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, যেভাবে মানুষ গাদাগাদি করে বাড়ি যাচ্ছে, তাতে করোনা সংক্রমণের ব্যাপক ঝুঁকি রয়েছে। পুলিশ বাধা দিচ্ছে না। রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোর একাধিক সূত্র জানায়, এর চেয়ে কড়াকড়ি করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূরপাল্লার বাস চলাচলের সুযোগ দেওয়া হলে সেটিই ভালো হতো।

সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদ সামনে রেখে মাইক্রো ও প্রাইভেটকারে ঢাকা ছাড়া যাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। আগামী ১৩ অথবা ১৪ মে ঈদ। ঈদের কাছাকাছি সময়ে এসব বাহনে যাত্রীদের ভাড়ার পরিমাণ আরও বাড়বে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া বেপরোয়া গাড়ি চলাচলে যে কোনো সময় দুর্ঘটনায় প্রাণহানিও হতে পারে।

গাবতলীর চিত্র :গতকাল গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, আবুল বাশার নামের এক ব্যক্তি লাগেজ নিয়ে বসে আছেন। তাকে দেখেই বোঝা গেল, তিনি ঢাকা ছাড়ার অপেক্ষায় আছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, বগুড়া যাব। কীভাবে যাবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাইক্রো অথবা প্রাইভেটকারে যাব। তিনি জানান, যাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু ভাড়া অনেক বেশি। আগের চেয়ে তিন-চার গুণ বেশি ভাড়ায় যেতে হচ্ছে। দেড় হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে যেতে হবে বগুড়ায়। এমনিতেই হাতে টাকা-পয়সা কম, তার মধ্যে অস্বাভাবিক ভাড়া দিয়ে বাড়ি যেতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গাবতলী বাস টার্মিনালের ভেতরে রাখা আছে মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার। সেখানে দু'জন পুলিশ সার্জেন্টের উপস্থিতিতে রাজশাহীগামী দুটি মাইক্রোতে গাদাগাদি করে যাত্রীদের উঠতে দেখা যায়। একেকজনের কাছ থেকে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা করে ভাড়া নেওয়া হয়। এখানে পুলিশের উপস্থিতি কেন- টার্মিনালের মো. শামীমের কাছে জানতে চাইলে বলেন, তারাও কিছু চান। দুই মাইক্রো থেকে এক-দেড় হাজার টাকা দিলে তারা চলে যাবেন।

গাবতলী টার্মিনাল থেকে দিন-রাত সব সময়ই যাত্রী নিয়ে মাইক্রো, প্রাইভেটকার ছাড়া হচ্ছে। সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে মানুষ যাচ্ছে যার যার গন্তব্যে। তবে এই অব্যবস্থাপনা দেখার যেন কেউ নেই।

মহাখালী টার্মিনালসংলগ্ন মেট্রো গলি থেকে ছাড়ছে ছোট গাড়ি :মহাখালী বাস টার্মিনালসংলগ্ন মেট্রোপলিটন মেডিকেল সেন্টার গলি থেকে গাদাগাদি করে যাত্রী নিয়ে অবাধে ছাড়ছে মাইক্রো ও প্রাইভেটকার। এই গলির সামনে ও আশপাশে পুলিশের চলাচল লক্ষ্য করা গেলেও তারা বাধাহীনভাবে ঢাকার বাইরে যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিজনের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে তিন থেকে চার গুণ বেশি। ময়মনসিংহ শহর পর্যন্ত একজন যাত্রীকে দিতে হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা। বিভিন্ন জেলায় রিজার্ভেও যাচ্ছে। সর্বনিম্ন আট থেকে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে।

সায়েদাবাদেরও একই অবস্থা : সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালসংলগ্ন বিভিন্ন গলি থেকে চট্টগ্রাম, সিলেটের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রী নিয়ে ছুটছে মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার। টার্মিনালের আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও তারা স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে মাইক্রো ও প্রাইভেটকার চলাচলে বাধা দিচ্ছে না। একেকটি মাইক্রোতে ১১-১২ জন করে যাত্রী বহন করা হচ্ছে।

এ ছাড়া রাজধানীর ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল, গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী, ধোলাইখাল, আমিনবাজার, মিরপুর, টঙ্গী, গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মাইক্রো ও প্রাইভেটকার যাত্রী নিয়ে অবাধে ঢাকার বাইরে যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন