সমকালে গতকাল প্রকাশিত 'বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগ :পছন্দের প্রার্থীর যোগ্যতা দেখে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি তৈরি করা হয় জবিতে' শীর্ষক সংবাদটির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। এতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব নিয়োগেই যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হয়, এখানে নিয়োগের শর্ত শিথিল করার বিষয়টি সম্পূর্ণ অবান্তর।

জবি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরে পরিচালক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতার শর্ত শিথিল করা হয়নি। পরিচালক পদে নিয়োগের জন্য উন্মুক্ত বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় এবং যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে একাধিক যোগ্য প্রার্থী সাক্ষাৎকারের জন্য মনোনীত হন। নিয়োগ বোর্ডে সরকার ও সিন্ডিকেট মনোনীত একাধিক বিশেষজ্ঞ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মতামতের ভিত্তিতে পরিচালক (পউও) পদের জন্য যোগ্য প্রার্থী হিসেবে প্রকৌশলী মো. সাহাদাত হোসেনের নাম সুপারিশ করা হয় এবং সে অনুসারে সিন্ডিকেট সভার অনুমোদনক্রমে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যাখ্যায় বলেছে, একনেক অনুমোদিত ডিপিপিতে উল্লেখ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (পটও) পদে নিয়োজিত ব্যক্তিই প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সে অনুসারে প্রকৌশলী সাহাদাত হোসেন জবির প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী পদে দায়িত্ব পালন করেন। প্রকৃতপক্ষে প্রকৌশলী সাহাদাত হোসেন সাবেক উপাচার্যের কোনো চাচাতো ভাই তো নয়ই, এমনকি দূরসম্পর্কের আত্মীয়ও নন। এ ছাড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ্য, মাসুদ রানা (উপ-প্রকৌশলী) সাবেক উপাচার্যের ভাইয়ের জামাতা এবং মাহাবুব আলম (সহকারী প্রকৌশলী, আইসিটি সেল) তার সম্পর্কে নাতি, বিষয়টি মোটেও সঠিক নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেনি। উন্মুক্ত বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হলে যাচাই-বাছাই শেষে একাধিক প্রার্থী সাক্ষাৎকারের জন্য মনোনীত হন। বোর্ডে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রধান প্রকৌশলী পদের জন্য যোগ্য প্রার্থী হিসেবে প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী, পিইঞ্জ নাম সুপারিশ করা হয় এবং সিন্ডিকেট সভার অনুমোদনক্রমে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধান প্রকৌশলী পদে কর্মরত ছিলেন। প্রতিবেদনের শিরোনামে 'পছন্দের প্রার্থীর যোগ্যতা দেখে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি তৈরি করা হয় জবিতে' বিষয়টিও সম্পূর্ণ অবান্তর। কেননা, যে কোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নীতিমালা অনুসারেই নিয়োগের শর্ত উল্লেখ করে উন্মুক্ত বিজ্ঞাপন জাতীয় পত্রিকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। সে আলোকে দেশের যে কোনো ব্যক্তি নিয়োগের শর্ত পূরণ করলেই আবেদন করতে পারে। আবেদনপত্রের আলোকে বাছাই বোর্ডের পর্যালোচনায় যোগ্য প্রার্থীদের লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। সাক্ষাৎকার বা পরীক্ষার ভিত্তিতে সুপারিশ করা যোগ্য প্রার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ, অর্থাৎ সিন্ডিকেট সভার অনুমোদনক্রমে নিয়োগ পায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। কারও একক সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়। তাই নিয়োগের শর্ত ব্যত্যয় হয়নি।

মন্তব্য করুন