শুধু রাজনৈতিক স্বার্থে সরকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিকাশ ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির নেতারা। গত শনিবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির এক ভার্চুয়াল বৈঠকে নেতারা এ অভিমত জানান। গতকাল রোববার বৈঠকের বিষয়বস্তু সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

সভায় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও অংশ নেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

সভায় স্থায়ী কমিটির নেতারা বলেন, সরকার আট বছর আগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে মামলার চার্জশিট দিয়ে বিএনপি নেতাদের জড়িত করার চক্রান্তে লিপ্ত। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশ। অথচ ভারতে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বিকাশের দায়-দায়িত্ব এ দেশের অসাম্প্রদায়িক মানুষের ওপর চাপিয়ে সরকার সচেতন রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হত্যা, গুম ও মিথ্যা মামলায় হয়রানি করছে। অবিলম্বে এই ভয়ংকর খেলা বন্ধ করে আটক সব নেতাকর্মীর মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয় সভা থেকে।

মমতাকে অভিনন্দন :সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে সাম্প্রদায়িকতাকে ভেঙে পরাজিত করে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক শক্তিকে বিজয়ী করায় রাজ্যের অসাম্প্রদায়িক জনগণকে অভিনন্দন জানায় স্থায়ী কমিটির এ সভা। নির্বাচিত পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও অভিনন্দন জানানো হয়।

দুর্নীতির জন্য দায়মুক্তির শর্ত :বিএনপি নেতারা মনে করেন, দুর্নীতির কারণে এবং ভারতকে খুশি রাখতে ভারত ও রাশিয়া প্রস্তাব দেওয়ার পরও সরকার তা গ্রহণ করেনি। তবে এখন উপায় না থাকায় ফের তাদের সঙ্গেই যোগাযোগ করা হচ্ছে। নেতারা বলেন, প্রথম ডোজ টিকা কার্যক্রম বন্ধ করায় উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে। সরকার টিকা সংগ্রহ করছে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে। ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকোর মাধ্যমে এটি আসছে। তবে ভারত সরকার রপ্তানি নিষিদ্ধ করার কারণে এখন টিকাপ্রাপ্তি পুরোপুরি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কিন্তু ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে দুর্নীতির লক্ষ্যে দায়মুক্তি শর্ত যুক্ত করায় সরকার কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এ ধরনের দায়িত্বহীন কাজে আজ সমগ্র জাতি বিপদগ্রস্ত। এতে প্রতারণা, দুর্নীতি এবং দায়িত্বহীনতার সব দায় সরকারকে নিতে হবে।

খাদ্য মজুদ ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে উদ্বেগ :খাদ্য মজুদের ঘাটতি থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থায়ী কমিটির নেতারা জানান, সরকারের অবহেলা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের স্বার্থে দেরিতে ধানের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ এবং সংগ্রহ কর্মসূচি নেওয়ায় একদিকে কৃষক ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে খাদ্য নিরাপত্তা চরমভাবে অনিশ্চত হয়ে পড়ছে।

মন্তব্য করুন