পদ্মায় স্পিডবোট দুর্ঘটনায় ২৬ যাত্রী নিহত হওয়ার পর আপাতত টনক নড়েছে নৌযান মালিকদের। এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর ওই রুটে অবৈধ স্পিডবোট ও ট্রলার চলাচল করলেও তা বন্ধে ভিন্ন কৌশল নেওয়া হয়েছে। যাতে এসব নৌযান চলতে না পারে, সেজন্য দুই তীরে নোঙর করা স্পিডবোটের পাখা খুলে রাখা হয়েছে। ট্রলারগুলোর ইঞ্জিনেও তালা মেরে দেওয়া হয়েছে। নৌযান মালিক ও চালক সূত্রে এসব তথ্য মিলেছে।

গত সোমবার সকালে শিমুলিয়া ঘাট থেকে অবৈধ একটি স্পিডবোট ৩১ যাত্রী নিয়ে মাদারীপুরের শিবচরের বাংলাবাজার ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। সেটি কাঁঠালবাড়ী পুরোনো ঘাটের অদূরে পদ্মা নদীর দক্ষিণ তীরে নোঙর করা বালুবাহী বাল্ক্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ২৬ যাত্রী। ঈদ সামনে রেখে এরপরও ওই রুটে গোপনে ট্রলার ও স্পিডবোট চলছিল। তবে তিন দিন ধরে এসব যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

কাঁঠালবাড়ী-বাংলাবাজার অংশের স্পিডবোটের মালিকরা জানিয়েছেন, ৬ মে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে চলমান লকডাউনের মধ্যে যাত্রীবাহী লঞ্চ, স্পিডবোট ও ট্রলার চলাচল বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এর পর থেকেই তারা এসব নৌযান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। ঈদে ঘরমুখো যাত্রী নিয়ে শিমুলিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা ট্রলার ও স্পিডবোটও বাংলাবাজার ঘাটে ভিড়তে দেওয়া হচ্ছে না।

ওই রুটে চলাচলকারী স্পিডবোটের একজন মালিক ঠান্ডু হাফেজ বলেন, ঈদের মধ্যেই তাদের যাত্রী বেশি থাকে। কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশে তারা এখন বোট চালাতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে বোটের পাখাগুলো খুলে রেখেছেন। অন্য একজন মালিক বলেন, অনেক সময়ে ঘাটে স্পিডবোট নোঙর করে রাখা হলেও চালকরা মালিককে না জানিয়ে চালাতে পারেন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় চুরিও হয়ে যেতে পারে। এজন্য তারা স্পিডবোটের পাখা খুলে রেখেছেন।

বাংলাবাজার স্পিডবোট মালিক সমিতির সভাপতি ও শিবচরের পাচ্চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হাওলাদার বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ১৬ মে পর্যন্ত স্পিডবোট চালানো যাবে না। এর পরও ঈদ মৌসুমে অনেক চালক-মালিক গোপনে তা চালাতে পারেন। এজন্য ইউএনওর উপস্থিতিতে সব স্পিডবোটের পাখা খুলে রাখা হয়েছে।

একাধিক ট্রলারচালক জানিয়েছেন, নৌ পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন তাদের ট্রলার নোঙর করে ইঞ্জিনে তালা মেরে দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে মালিকরা নিজেরাই ট্রলারগুলো তালা মেরে রেখেছেন।

এদিকে সোমবারের দুর্ঘটনায় দায়ের মামলার চার আসামির মধ্যে দু'জন এখনও অধরা। দুর্ঘটনার পর নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে শিবচর থানায় শিমুলিয়া স্পিডবোট ঘাটের ইজারাদার শাহে আলম খান, স্পিডবোটের দুই মালিক চান্দু মোল্লা ও রেজাউল ইসলাম এবং চালক শাহ আলমকে আসামি করে মামলা হয়। ঘটনার পর পুলিশ আহত চালককে গ্রেপ্তার করে। রোববার রাতে কেরানীগঞ্জ থেকে র‌্যাব সদস্যরা স্পিডবোটের দুই মালিকের একজন চান্দু মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেন।

শিবচরের বাংলাবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক আবদুর রাজ্জাক বলেন, পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে তারা অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।

নৌ পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, র‌্যাব থেকে আসামি চান্দু মোল্লাকে তাদের কাছে হস্তান্তর করলে তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের অনুমতি চাওয়া হবে। বিধিনিষেধের মধ্যে কেন স্পিডবোট চালানো হচ্ছিল, সে বিষয়ে তার কাছে জানতে চাওয়া হবে। চালক শাহ আলম সুস্থ হলে তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। দুর্ঘটনায় আহত হয়ে তিনি এখনও চিকিৎসাধীন।

মন্তব্য করুন