চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে টিকা না দেওয়ায় ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার উপায় খোঁজার পরামর্শ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। গতকাল রোববার সংসদ ভবনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতেই সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে একাধিক উৎস থেকে টিকা আনার পক্ষে মত দেওয়া হয়। মাত্র একটা উৎস থেকে টিকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন হলো, তা মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যায় কমিটিকে জানানো হয়েছে, এটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিষয়। তারা এখন একাধিক উৎস থেকে টিকা আনার চেষ্টা করছে। ভারত থেকেও জুলাইয়ে টিকা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া যক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন থেকে টিকা আনার চেষ্টা চলছে।

ফারুক খান বলেন, সেরাম ইনস্টিটিউট টিকা না দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করতে কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পড়ে থাকা অক্সফোর্ডের টিকা আনা যায় কিনা; সেই উদ্যোগ দ্রুততার সঙ্গে নিতেও বলা হয়েছে। তিনি বলেন, টিকা কেন আনা যাচ্ছে না- এটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বৈঠকে। তারা চেষ্টার কথা বলেছেন। এই মুহূর্তে একটা সংকটের মধ্যে পড়তে যাচ্ছি। যারা এক ডোজ টিকা নিয়েছেন, তাদের দ্বিতীয়বার না পেলে তো হবে না।

করোনার ভারতীয় ধরনের অস্তিত্ব বাংলাদেশে পাওয়ার প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি বলেন, সীমান্ত বন্ধ করাটাকে আরও শক্তিশালী করতে বলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে বিজিবিকে আরও শক্তিশালী টহলের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত থেকে টিকা পাওয়ার জন্য জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া মে মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যে সংসদীয় কমিটিকে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিন পরিদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ, হাবিবে মিল্লাত ও কাজী নাবিল আহমেদ অংশগ্রহণ করেন।

মন্তব্য করুন