চপল মাহমুদ। পেশায় সাংবাদিক। প্রাণ-প্রকৃতি নিয়ে কবিতাও লেখেন। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটার প্রতিবাদ জানাতে সেসব কবিতা নিয়ে এসেছেন তিনি। গতকাল সোমবার বিকেলে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে নিজের লেখা পরিবেশবিষয়ক ২০টিরও বেশি কবিতা পাঠ করে গাছ কাটার প্রতিবাদ জানান তিনি।

শুধু চপল মাহমুদ নন, বিভিন্ন সংগঠনের পাশাপাশি নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটার প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভিন্নধর্মী নানা আয়োজনে শুধু প্রতিধ্বনিত হয়েছে কোনোভাবেই কাটতে দেওয়া হবে না সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আর একটি গাছ। গতকাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাটক, কবিতা, গান ও মানববন্ধন পালন করে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। পথনাটক, গান আর ক্যানভাসজুড়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে গাছহীন ভবিষ্যতের ভয়াবহতা। রোপণ করা হয়েছে গাছের চারাও।

টিএসসির সামনের গেটে গত পাঁচ দিন ধরে 'গাছের জন্য মৌন পীড়ন' শিরোনামে তরুণ শিল্পীদের একটি দল কর্মসূচি পালন করছে। গতকালও তারা নাটক ও গানে গানে গাছ কাটার প্রতিবাদ জানায়। এই কর্মসূচির আয়োজকদের একজন সুজিত সজীব বলেন, যখন প্রাণ-প্রকৃতি নিয়ে পুরো পৃথিবীকে নতুন করে ভাবতে শেখাচ্ছে এক অদৃশ্য ভাইরাস, তখন সবুজের ওপর এমন নিষ্ঠুর আচরণ কোনোভাবে মেনে নেওয়ার নয়।

'সবুজের জঙ্গল কেটে কংক্রিটের জঙ্গল গড়ার' প্রতিবাদে গতকালও সোচ্চার ছিল নোঙর বাংলাদশ, স্বাধীনতা উদ্যান সাংস্কৃতিক জোট, গ্রিন প্ল্যানেটসহ বিভিন্ন সংগঠন। পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে নানা রকম স্লোগান লিখে পোস্টার লাগানো হয়েছে। আন্দোলনকারীরা লাল ক্রস চিহ্ন গাছগুলোর নামকরণ করেছেন খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণ করে।

মন্তব্য করুন