সারাদেশে অস্বস্তিকর তাপপ্রবাহ, ভ্যাপসা গরম এবং কোনো কোনো অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টিও হচ্ছে গত এক সপ্তাহ ধরে। অবশ্য রোদের তুলনায় সামান্য যতটুকু বৃষ্টি হচ্ছে, তাতে গরম মোটেও কমছে না। মধুমাস জ্যৈষ্ঠের তৃতীয় দিনে গতকাল সোমবার তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় গরমে হাঁসফাঁস করেছে দেশের মানুষ। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বয়ে যাওয়া মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহে নাকাল হয়ে পড়েছে সবাই।

ঢাকায় গত শনিবার বৃষ্টি হলেও গরমে অতিষ্ঠ ছিলেন নাগরিকেরা। গতকাল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছিল মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ। এ দিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৩৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গত ফাল্কগ্দুন থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে গড় বৃষ্টিপাত হয়েছে স্বাভাবিকের তুলনায় কম। এপ্রিল মাসে বৃষ্টি হয়েছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৯ শতাংশ কম। মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে পশ্চিমা ও পূবালি লঘুচাপের প্রভাব কম থাকায় স্বাভাবিকের চেয়েও বৃষ্টিপাত কম বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। একদিকে বৃষ্টি নেই, অন্যদিকে সূযরশ্মি এখন তির্যকভাবে পড়ছে ভূগোলকের বাংলাদেশ অঞ্চলে। তা ছাড়া, সূর্যের কিরণকাল অর্থাৎ দিনের দৈর্ঘ্যও বাড়ছে, যা নিয়ম অনুযায়ী ২১ জুন পর্যন্ত বাড়বে। ফলে দিনের তাপমাত্রা হয়ে উঠেছে অসহনীয়। দিন ও রাতের তাপমাত্রার মধ্যে ব্যবধানও গেছে কমে। আক্ষরিক অর্থেই রুদ্ররূপ ধারণ করেছে প্রকৃতি।

সবচেয়ে অসহনীয় অবস্থায় পড়েছে রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের জনসাধারণ। মূলত এ তিনটি বিভাগের জেলাগুলোয় এবং ঢাকার কয়েকটি জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার ঢাকা, খুলনা, বরিশাল বিভাগ এবং পাবনা, রাজশাহী, রাঙামাটি, চাঁদপুর ও মাইজদী কোর্ট এলাকার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে এবং আগামী তিন দিন আবহাওয়ার কোনো পরিবর্তন হবে না।

আবহাওয়াবিদদের মতে, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা 'মৃদু তাপপ্রবাহ'। উষ্ণতা বেড়ে ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা 'মাঝারি তাপপ্রবাহ'। ৪০ ডিগ্রির বেশি হলে তা 'তীব্র তাপপ্রবাহ' হিসেবে বিবেচিত হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবদুর রমান সমকালকে বলেন, আগামী ২১ মে পর্যন্ত তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। দিনে তাপমাত্রা বেশি থাকতে পারে, আবার সন্ধ্যা কিংবা রাতে বৃষ্টি হতে পারে। শুক্রবারের পর তাপমাত্রা কমতে পারে। তিনি বলেন, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। যার বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত আছে। এতে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম ৫৮ শতাংশ। এ কারণে ঘাম হচ্ছে না।

মন্তব্য করুন