স্বপ্নে 'ব্রেইন টিউমার'-এর ওষুধ পেয়েছিলেন। সেই ওষুধ খেয়ে নিজে ব্রেইন টিউমারের মতো জটিল রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন বলে দাবি তার। পরে আশপাশের মানুষকে মাথাব্যথার প্রতিষেধক হিসেবে সেই ওষুধ দেওয়া শুরু করেন। এখন জন্ডিস, আমাশয়, ডায়াবেটিস, সিফিলিস, পিত্তপাথর অপসারণ, হার্ট ব্লকের চিকিৎসা এমনকি কান্সারেরও চিকিৎসা করেন কথিত ওই চিকিৎসক। আগে প্রতিদিন রোগী দেখলেও এখন সপ্তাহে চারদিন নিজ বাড়িতে চেম্বারে বসে রোগী দেখেন।

কথিত ওই চিকিৎসকের নাম এমদাদুল হক মালী। তিনি খুলনার কয়রা উপজেলার কাটকাটা গ্রামের বাসিন্দা। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করা এই ব্যক্তি আগে নদীতে বাগদার রেণু সংগ্রহ করতেন। এলাকায় এখন তিনি 'স্বপ্ন দেখা ডাক্তার' হিসেবে পরিচিত। কোনো সনদপত্র না থাকলেও প্রচারপত্রে নিজের নামের আগে 'ডাক্তার' শব্দটিও ব্যবহার করছেন তিনি।

চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোগীপ্রতি ২০০ টাকা এবং ওষুধের দাম আলাদা দিতে হয়। তবে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, প্রথমে নির্দিষ্ট কোনো ফি ছিল না। রোগীরা যা দিতেন তাই নিতেন। এখন তার ফি ও ওষুধ বাবদ রোগীপ্রতি ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। এক সময়ের দিনমজুর এখন কয়েকটি চিংড়ি ঘেরের মালিক। বাড়িঘরও পাকা করেছেন। তার কাছে আশপাশ এলাকা থেকে রোগীরা এসে ভিড় করেন।

কথিত চিকিৎসক এমদাদুল হক মালী জানান, ২০০৮ সালে তিনি ব্রেইন টিউমারে ভুগছিলেন। সে সময় দেশে এবং ভারতে গিয়েও নামকরা চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিয়েছেন। তারা সবাই অপারেশন করার কথা জানান। কিন্তু টাকা জোগাড় করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই সব আশা ছেড়ে বাড়ি ফিরে আসেন। এক রাতে স্বপ্নে ওষুধ পান তিনি। সেই ওষুধ খেয়ে ধীরে ধীরে ভালো হয়ে যান। পরে স্বপ্নযোগে মানুষের সেবা করার নির্দেশ পান। একই সঙ্গে বিভিন্ন রোগেরও ওষুধ পান। তিনি বলেন, মানুষের সেবা করা দোষের কিছু নয়।

চেম্বারে গিয়ে দেখা যায়, তাকের ওপর শতাধিক প্লাস্টিকের কৌটায় নানা রঙের গুঁড়া ভরে রাখা আছে। ওই গুঁড়া কাগজের পাতায় ভরে তার সহকারীরা রোগীদের দিচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য গণেশ মণ্ডল বলেন, তার চেম্বারে অনেক দূর-দূরান্ত থেকে রোগী আসতে দেখি। তা ছাড়া গ্রামের মানুষও তার কাছে চিকিৎসা নিয়ে থাকে। অনেকে ভালোও হয়েছে বলে শুনেছি।

তবে কেরামত গাজী নামে এক রোগী অভিযোগ করেন, গত এক মাস ধরে তিনি শ্বাসকষ্টের জন্য চিকিৎসা নিচ্ছেন ওই চিকিৎসকের কাছে। এখন পর্যন্ত কোনো উপকার হয়নি। এ পর্যন্ত তিন হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে তার। মরিয়াম খাতুন নামে আরেক রোগী বলেন, 'স্বপ্নে ওষুধ পেয়েছেন- শুনে এসেছি। বিশ্বাস করে খেয়ে দেখি। আল্লাহ চাইলে হয়তো এই ওষুধে ভালো হতে পারি।'

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুদীপ বালা বলেন, এটা এক ধরনের প্রতারণা। মানুষ সরল বিশ্বাসে এসব প্রতারণার ফাঁদে পা দিচ্ছেন।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, চিকিৎসার নামে প্রতারণা বন্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন